খুলনায় পুলিশের অভিযানে জাল নোট ছাপানোর যন্ত্রপাতিসহ তিন সদস্য আটক

শেয়ার

খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনা জেলা পুলিশ অত্র জেলার অপরাধ নিয়ন্ত্রনে তাদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে। জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত অভিযানে চোর, অজ্ঞান পার্টির সদস্য, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন চলমান আছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডুমুরিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকশ দল গত ১৭/০৪/২৩ তারিখে রাত ১৭:৩০ ঘটিকায় ডুমুরিয়া থানা এলাকা হতে ১,১০,০০০/ (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা মূল্যমানের জাল টাকাসহ একজন আসামীকে আটক করতে সক্ষম হন। আসামীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রজু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে ধৃত আসামীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে আসামীর প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৩/০৫/২৩ তারিখে জাল টাকা সিন্ডিকেটের পলাতক ০২(দুই) জন আসামী’সহ জাল টাকা ছাপানোর যন্ত্রপাতি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

ডুমুরিয়া থানাধীন আঠারো মাইল বাজারের গরুর হাট এলাকা হতে পুলিশ একজন আসামীকে আটক করতঃ আসামীর নিকট হতে মোট ১,১০,০০০/ (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা মূল্যমানের জাল নোট ১৭/০৪/২০২৩ তারিখ ১৭:৩০ ঘটিকায় উদ্ধার করতঃ জব্দ করে। ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, পলাতক দুইজন আসামি’সহ তারা গরু ব্যবসায়ী পরিচয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করে জাল টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করার জন্য আঠেরো মাইল গরুর হাটে এসেছিল। উক্ত আসামীকে আটক করতে দেখে তার সঙ্গে থাকা অন্য দুজন আসামী কৌশলে পালিয়ে যায়। উল্লেখিত ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রজু হয় এবং পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে চিরুণী অভিযান অব্যাহত থাকে।

পরবর্তীতে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে ধৃত আসামীকে রিমান্ডে আনে। রিমান্ড চলাকালীন জিজ্ঞাসাবাদে আসামীর প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গত ০৩/০৫/২৩ তারিখে জাল টাকা সিন্ডিকেটের পলাতক ০২(দুই) জন আসামী’সহ জাল টাকা ছাপানোর যন্ত্রপাতি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ০৪/০৫/২৩ তারিখ পর্যন্ত উল্লেখিত জাল টাকার মামলায় আটককৃত মোট ০৩(তিন) জন আসামীর মধ্যে ০২(দুই) জন আসামী উল্লেখিত ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে।

জেলা পুলিশ আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে নিরলশ্ কাজ করে যাচ্ছে। সমাজে মানুষের ভোগান্তি লাঘব এবং বর্তমান সরকারের জঙ্গী, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। জাল টাকার বিষয়ে জনসচেতনতার অংশ হিসেবে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে- সামনে পবিত্র ঈদ-উল-আজাহা। এই সময়ে জাল টাকার সিন্ডিকেট তাদের অপকর্ম বাড়ানোর চেষ্টা করবে। তাই যে কোন কিছু ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ১০০/ টাকা, ৫০০/ টাকা ও ১০০০/ টাকা মূল্যমানের নোটগুলো ভালভাবে দেখে নিতে হবে। কেননা এই নোটগুলোর জাল হয় খুব বেশি। টাকায় থাকা নিরাপত্তা সুতা, রং পরিবর্তনশীল কালি, অসমতল ছাপা, জল ছাপ ইত্যাদি দেখে টাকা লেনদেন করলে আপনি লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপদ থাকতে পারবেন। জালনোট একটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। জালনোটের কারণে মানুষ প্রতারিত হয়। প্রচলিত মুদ্রা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়। এসব কারণে জালনোটের প্রচলন যথাসাধ্য বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। উঠতি বয়সের ছেলেরা ফেস বুকে পেজ খুলে জাল টাকা ক্রয় বিক্রয় করছে মর্মে সম্প্রতি মিডিয়াতে শিরোনাম হয়েছে। তারা পেশাদার অপরাধী না হলেও উচ্চাভিলাষের কারনে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরছে। তাই আপনার সন্তানের ব্যাপারেও সজাগ থাকুন। যে কোন অপরাধের শিকার হলে পুলিশের স্মরণাপন্ন হউন। এছাড়া জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ তো আছেই।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.