বরগুনার বেতাগীতে পানির চাপে রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে ফসলের ক্ষতি

শেয়ার

মইনুল আবেদীন খান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার বেতাগীর কৃষকের স্বপ্ন কেড়ে নিল পূর্ণিমার জোয়ারের পানি। ঘরে আর আনা হলো না ফসল। পানিতেই তলিয়ে নষ্ট হয়ে রইল মাঠে।ডুবে গেলে কৃষকের আশা।

গত এক বছর আগে বেতাগী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বিষখালী নদীর পাড় ঘেঁষে তৈরি হয়ে ছিলো কৃষকদের লালিত স্বপ্নের রাস্তা। সেই রাস্তা যেনো এক বছরের মাথায় কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিলো। সেই রাস্তা রুপ ধারণ করলো বিশ্বাসঘাতকের!

হঠাৎ পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তাটি বিধ্বস্ত হয়ে ওই সব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয় এবং তলিয়ে যায় ফসলের মাঠ।এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে ফসলের এমন কথা বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা।

মাঠে মাঠে ভরা ছিল কৃষকের শস্য ও ফসল। স্বপ্ন ও ছিল অনেক। কেউ ক্ষেতে চাষ করেছিল মরিচ, বাদাম ও ডাল। আবার কারও কারও ছিল সবজি ভরা ক্ষেত। আশা ছিল বুক ভরা। এসব ফসল ঘর তুলবে। ন্যায্য দামে বিক্রি করে লাভবান হবে। কিন্তু কৃষকের সে আশা আর পূরণ হলো না। কৃষকের স্বপ্ন যেন স্বপ্ন হয়ে ঝরে গেলো।

অতিরিক্ত পানির ফলে পানিতে প্লাবিত হয়েছে শত শত হেক্টর জমির ফসল। তার মধ্যে ১৫০ হেক্টর ইরি ধানের বীজ, ১০০ হেক্টর চিনাবাদাম , ১০০ হেক্টর মরিচ,১৫০হেক্টর ডাল ও ১০০ হেক্টর জমির সবজি সহ প্রায় ৬ শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে কৃষকরা জানান।

ভুক্তভোগী কৃষকরা আরো বলেন আমাদের প্রশাসনের বা জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোন প্রকার পরামর্শ বা সহযোগিতা পাইনি।

কৃষক বেল্লাল হোসেন বলেন ফসলের বীজ রোপনের পরপরই প্রচুর খরার কারণে ফসল কম হয়েছিল আবার যেটুকু হয়েছিল সে টুকু কেড়ে নিল পানিতে।

কৃষক মোঃ আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন মুগ ডাল, মরিচ ও বাদাম ক্ষেতে রয়ে গেছে। সব মুগ ডাল, বাদাম ও মরিচগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এত ক্ষতি কী দিয়ে পূরণ করবো।

উওর বেতাগী গ্রামের কৃষক মোঃ নাসির বলেন, পানি ঢুকে সব সবজি তলিয়ে গেছে। পানি না কমলে সব সবজি শেষ হয়ে যাবে।

বেতাগী উপজেলা কৃষি অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, কৃষক দের কাছে উপসহকারী পাঠিয়ে কৃষক দের পরামর্শ দিয়েছি। তবে উপসহকারী বলেছিলো পৌর ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার রাস্তা টিকানোর জন্য কালভার্টগুলো ছেড়ে দেওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমরা কৃষকদের সবসময় পাশে আছি।

পৌর ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রিয়াদ খান বলেন, আমি রাস্তা টিকানোর জন্য চেষ্টা করেছি তবে কালভার্ট ছেড়ে দেয়নি। রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে পানি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন বলেন, শুনেছি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যতটুকু সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.