মোঃ হাসিবুজ্জামান টিপু, খুলনা জেলা প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাজাহারুল মুন্না অপু (১৭) নামে এক কিশোরের অকাল মৃত্যু হয়েছে। তিনি পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতাল হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত অপু উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের শান্তা গ্রামের বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ সরদার ও বেলী বেগম দম্পতির ছেলে। তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি পাইকগাছা গ্রামের নানার বাড়িতে বসবাস করতেন।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে অপুর শরীরে প্রচণ্ড জ্বর দেখা দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। প্রথমে তাকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
পরে খুলনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ।
অপুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার আসরবাদ ভিলেজ পাইকগাছা উত্তরপাড়া শাহী জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম লাভলু।
একের পর এক মৃত্যুতে বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক
পাইকগাছায় ডেঙ্গুর প্রকোপে অপুর মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পাইকগাছার ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার মন্ডল।
অল্প সময়ের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত মশক নিধন অভিযান জোরদার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে—এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
