১৯৬০ দশকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মাঠের সংগঠক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতকারী সংগঠন জয় বাংলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনী রামগতি—হাতিয়া জোনের কমান্ডার, বীরমুক্তিযোদ্ধা, ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি, জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, প্রচার সম্পাদক, সহ—সভাপতি, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকারী নেতা, রামগতি নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি মোশারেফ হোসেন ২১ জুন ২০২৬ রবিবার রাত ১:১৫ মিনিট ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না…..রাজেউন)। তার মৃত্যুর খবর শুনেই জাসদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হাসপাতাল ও তার বাসায় ছুটে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।
তিনি গত দুই বছর যাবৎ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র, তিন পুত্রবধূ, তিন কন্যা, তিন জামাতাসহ অসংখ্য আত্মীয়—স্বজন গুনগ্রাহী রেখে গিয়েছেন।
রবিবার সকাল ৬.১৫ টায় সেগুনবাগিচায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চত্বরে তার ১ম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ জানাজায় জাসদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে।
সকাল ৭.০০ টায় প্রয়াত নেতা মোশাররফ হোসেনের মরদেহ দলীয় নেতা—কমীর্দের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রয়াত নেতার কফিনে জাসদের পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া, কফিনে পুস্পস্তবক অর্পণ এবং স্যালুট প্রদান করে দলের পক্ষ থেকে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
প্রয়াত নেতা মোশারেফ হোসেনের দ্বিতীয় জানাজার নামাজ আজ বাদ আছর চর আলেকজান্ডার হাইস্কুল মাঠে এবং তৃতীয় জানাজার নামাজ সন্ধ্যা ৬ টায় তার গ্রামের বাড়ি পশ্চিম বালুর চরে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে। তার জানাজার নামাজে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রামের নেতা—কমীর্রা অংশগ্রহণ করবে।
জাসদের শোক
জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে কার্যকরী সভাপতি এড. রবিউল আলম এক শোক বিবৃতিতে প্রয়াত নেতা মোশারেফ হোসেনের প্রতি দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, প্রয়াত নেতা মোশারেফ হোসেন স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ঠ লক্ষ্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম, জয় বাংলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্য হিসাবে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফ—মুজিব বাহিনীর রামহিত—হাতিয়া দ্বীপাঞ্চল জোনের কমান্ডার হিসাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার—আলবদরদের বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক যুদ্ধ পরিচালনা করা, স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পরিত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সামাজিক বিপ্লবের রাজনীতিকে ধারণ করে দেশের প্রথম বিরোধী দল গঠনসহ সকল ধরনের স্বৈরশাসন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রামে সাহসী অবদান রাখাসহ প্রগতিশীল আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। দেশ ও জাতির প্রতি তার এই অনবদ্য ভূমিকার জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম বলেন, প্রয়াত মোশারেফ হোসেনকে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত লাভ—লোভ—স্বার্থের হিসাবে স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি রাজনৈতিক সততা এবং সহজ—সরল—নিলোর্ভ জীবনের অধিকারী ছিলেন। যে কোনো জাতীয় সংকটে তিনি দলীয় রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। কোনো ধরনের রাজনৈতিক দোদুল্যমানতা বা বিভ্রান্তিতে না ভুগে দেশ—জাতি—জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দলীয় রাজনৈতিক নীতি—কৌশল নির্ধারণে দৃঢ়তা প্রদর্শন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার সংগ্রামী জীবন জাসদের নেতা—কমীর্দের জন্য প্রেরণা যুগিয়ে যাবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ জননেতা হারালো, জাসদের নেতা—কমীর্রা হারালো একজন অভিভাবক।
