তজুমদ্দিনে মাদ্রাসা ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

শেয়ার

 

রুবেল চক্রবর্তী,ভোলা।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে  ভবনের ঢালাই কাজে এনালক সেন্টারিং ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ খোদ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের । এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান ও ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ভোলার প্রকাশিত Award of Contract-এর তথ্য অনুযায়ী নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মো. খালিদ হোসেন, ভোলা সদর। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিজে কাজ বাস্তবায়ণ না করে কাজ বিক্রি করেন লালমোহন উপজেলার হাজী জুলফিকার মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে।সাব ঠিকাদার হিসাবে জুলফিকার মিয়ায় কাজটি বাস্তবায়ণ করছে।

উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাপড়ি এলাকায় অবস্থিত এই
মাদ্রাসাটিতে ৪ তলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, স্যানিটারি, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়ন কাজের জন্য অনুমোদিত চুক্তিমূল্য ১  কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫০ টাকা। কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে ৫৪০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। কাজের শুরু থেকে অনিয়ম করতে থাকে সাব ঠিকাদারের লোকজন। ইট, বালি, খোয়া ও সিমেন্ট, ওয়াস ছাড়া ময়লাযুক্ত (মরা) পাথর আনা হয়েছে ছাদ ঢালাইয়ের জন্য। নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী।
চুক্তিপত্রে কাজটি PPA-2006 ও PPR-2025-এর বিধান এবং অনুমোদিত নকশা, স্পেসিফিকেশন ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সম্পন্ন করার নির্দেশনাও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ঢালাই কাজে যে ধরনের সেন্টারিং ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কথা, বাস্তবে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে ঢালাইয়ের কাজে কথিত এনালক সেন্টারিং ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যেখানে সরকারি নির্মাণ কাজে এনালক সেন্টারিং ব্যবহারের সুযোগ নেই, সেখানে এই কাজে কিভাবে এনালক সেন্টারিং ব্যবহার করছে সাব ঠিকাদার। ঢালাইয়ের ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করা উচিত।
এ অবস্থায় নতুন ভবনটি যদি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী বা অনিয়মের মাধ্যমে নির্মিত  হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়দের।
এইসব অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে হাজী জুলফিকার মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

মাদ্রার সুপার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, আমরা শিক্ষক মানুষ নিয়ম অনিয়ম বুজি না। ঠিকাদারের লোকজন সেন্টারিংয়ে কাঠ ব্যবহার করছে এটি সঠিক। আমরা চাই সরকারের নিয়মানুযায়ী কাজটি করা হোক।
ভোলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের  নির্বাহি প্রকৌশলী মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পাথরের ঢালাইয়ের কাজে এনালক সেন্টারিং ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। মোহাম্মদ ভেলা মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ কাজে এনালক সেন্টারিং ব্যবহার হলে কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে। পাথরসহ অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.