লক্ষ্মীপুরে কাজ না করেই ৩০ লাখ টাকা বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ

শেয়ার

 

বিশেষ প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় খাল পুনর্খনন ও সংস্কার প্রকল্পের কোনো কাজ না করেই পুরো বিল  তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে অনিয়মের মাধ্যমে ম্যানেজ করে এ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর  (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ‘আইপিসিপি’ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পি টু ডি খাল (০.০০ মি. হতে ১০৯৫.২৭ মি.) এবং পি টু ডি ১/১ খালের (০.০০ মি. হতে ২৩৯৭.৬০১ মি.) সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো (বেড ব্লক ও টিবিএম) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজের মোট চুক্তি মূল্য ছিল প্রায় ৩০ লাখ ৩ হাজার ৫৩৬ টাকা।
সংযুক্ত নথি অনুযায়ী, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নম্বর IPCP/LAXM/SADAR/C/24-25/28.12 (টেন্ডার আইডি: ১০৭০৪২৭)-এর মাধ্যমে আমমার ট্রেডার্স নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়।

তবে সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে  জানা যায়, নির্ধারিত খালে সংস্কার কিংবা খননের কোনো দৃশ্যমান কাজই করা হয়নি। এমনকি খালের বাঁধ ও পাড় সংস্কারের কাজও অলিখিত রয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজ শুরু না হতেই কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রকল্পটির সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না  করার শর্তে বলেন, “খালে এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি। বর্ষায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় আগের মতোই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম এ কাজের নাকি সব টাকা উঠে গেছে।”

অভিযোগ উঠেছে, এলজিইডির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন সরেজমিনে কোনো তদারকি ও পরিদর্শন ছাড়াই আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমমার ট্রেডার্সকে বিল ছাড়ের  অনুমোদন দেন।

এ বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী ইকবাল  হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের  নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের অনিয়মের লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.