কামরুল হাসান হৃদয়, লক্ষ্মীপুর:
পালাবদল এসেছে প্রকৃতিতে। বছর ঘুরে আবারও এসেছে ফলের মৌসুম। এ সময়ে সারাদেশেই চোখে পড়ে মৌসুমী নানা ধরণের ফলের। প্রতি বছরের মতো এবারও মৌসুমী ফলে ছেয়ে গেছে লক্ষ্মীপুরের ফলের বাজার।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় শহরের প্রতিটি মোড়ে-ই মৌসুমী ফলের সমারোহ। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে লিচু, কাঁঠাল, আম, তালের শাঁস, আনারস ইত্যাদি। এসব ফলের গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে প্রতিটি দোকান থেকে। মৌসুমী ফলের মধ্যে বর্তমানে বাজারগুলোতে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আম ও লিচু। এছাড়া শহরের প্রায় প্রতিটি সড়কে ভ্যানে করে ফল বিক্রি করছেন অনেক মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী। বাজার থেকে কিছুটা কম দামেই ফল বিক্রি হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগুলোতে। শহরের সামাদ মোড়, চকবাজার, উত্তর স্টেশন, দক্ষিণ স্টেশন, গোডাউন রোডের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমী ফল বিক্রিতে। তারা মূল দোকানের সামনের অংশে মৌসুমী ফল রেখে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। হিমসাগর, লেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের আম, বিভিন্ন জাতের লিচু শোভা পাচ্ছে ফল দোকানগুলোতে।
ফল ব্যবসায়ী আব্দুল বলেন, “এখন বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে লিচু। প্রকার ভেদে প্রতি একশ লিচু বিক্রি হচ্ছে সাড়ে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকায়। তবে গতবারের তুলনায় এবার দাম বেশি।” অপর ব্যবসায়ী রহিম বলেন, “আমের বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। তবে লিচুর এখন ভরপুর মৌসুম। তাই লিচুর ব্যবসা জমজমাট।”
ফল কিনতে আসা একজন বলেন, ” মৌসুমের নানান ধরণের দেশীয় ফল এখন বাজারে এসেছে। এগুলো মানুষের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আমি সাড়ে পাঁচশ টাকা দিয়ে একশ লিচু কিনেছি। তবে দাম গতবারের চেয়ে একটু বেশিই মনে হচ্ছে।” এছাড়া কলেজ মোড় ও গার্লস স্কুল সংলগ্ন এলাকায় তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে। এগুলো প্রতিটি ২০ থেকে ৩০ টাকা করে দাম রাখা হচ্ছে।
ভ্যানে করে মৌসুমী ফল বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন,”আগে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতাম। এখন মৌসুমী ফলের চাহিদা বেশি। তাই ফল বিক্রি করছি। দোকানের চেয়ে দাম কিছুটা কম নিচ্ছি বলে মানুষ ফল কিনছেন। এতে আমার লাভও ভালো হচ্ছে। দৈনিক প্রায় ৩-৪ হাজার টাকার ফল বিক্রি করছি।”
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মার্কেটিং কর্মকর্তা মোঃ মনির হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারে শতভাগ ফরমালিন মুক্ত ফল আসছে এবং ন্যায্য দামে-ই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আমরা মনিটরিং করছি, এরপরও কোনো ব্যবসায়ী দাম বেশি রাখলে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা নিবো।
