মোখলেছুর রহমান ধনু, রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। রাতের আঁধারে ফসলি জমি ও স্থানীয় ভূলুয়া নদীর মাটি কেটে নিচ্ছে মাটিখেকো চক্রটি।
এ চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা। এতে একদিকে দিনদিন কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। ৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত রামগতি উপজেলা। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গড়ে উঠা অবৈধ ইটভাটার মালিকরা রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। মাটি কাটা থেকে বাদ পড়েনি ভূলুয়া নদীও। নদীর মাটি নিয়ে ইট তৈরী করছে ভাটার মালিকরা। উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটি খেকোরা। স্থানীয়দের দাবী এসব মাটিখেকোদের এখনই রুখতে হবে।
না হয় আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে ফসলি জমি আর থাকবেনা। স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে সয়াবিন, বাদাম, ধান ও মরিচ উৎপাদন হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হারে । তবে মাটি নিয়ে ব্যবসা করা একটি চক্রের নজর পড়েছে এই ফসলি জমির দিকে। অবাধে চলছে জমির উপরের ভাগ কেটে নেওয়ার হিড়িক। এসব মাটি খেকোরা ফসলি জমি ও ভূলুয়া নদীর মাটি নিয়ে ইটভাটা সহ অন্যত্র বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
সরেজমিনে উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিনামাঝির খেয়া, পাটোয়ারীর মোড় ও সুইজ গেইট নামক স্থানে অবাধে চলছে মাটি কাটার হিড়িক।
এছাড়াও চর আলগী,চরপোড়াগাছা,চরবাদাম, আলেকজান্ডার, চররমিজ,বড়খেরী ও চরগাজী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে চলছে মাটি খেকোদের এই তান্ডব। চক্রটি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই যজ্ঞে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় মোঃ ইসমাইল,খবিরুল হক ও আবু মাঝি জানান, মাটি আনা নেওয়ার জন্য মাটি খেকোদের পরিচালিত ট্রাক্টর টলির যন্ত্রণায় সারারাত মানুষ ঘুমাতে পারেনা। রাতের আঁধারে সারারাত তারা মাটি কেটে নিচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন এব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খান বলেন,বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। অচিরেই এসব মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
