আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী হাফিজ মোল্লার নির্মম নির্যাতনে সামিয়া আক্তার (২৯) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ২৫ জুন দিবাগত রাত ২টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর স্ত্রীর লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখেই কৌশলে পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্যা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সামিয়া আক্তার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নং ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেন বতার বড় মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লা একই এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছোট ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে হাফিজ মোল্লা। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগে থাকত। সামিয়া ছাড়াও হাফিজের আরও দুটি স্ত্রী রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, হাফিজ এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একজন দুধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া এলাকার মেয়েদের উত্যক্ত করারও বহু অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, গত ১৬ জুন হাফিজ মোল্লা তার বোন সামিয়াকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে গুরুতর আহত করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে সে নিজেই সামিয়াকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে টানা ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় সামিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সামিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই ঘাতক হাফিজ গ্রেফতার এড়াতে লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরে সোহরাওয়ার্মী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাকে অবহিত করে। পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। স্বজনদের দাবি, সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে মারধরের পর বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।
২৬ জুন (শুক্রবার) রাতে এশার নামাজের পর নিহত সামিয়ার লাশ তার বাবার বাড়ি ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়িতে নিয়ে আসা হলে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘাতক হাফিজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।
নিহত সায়মার বাবা দেলোয়ার হোসেন বতা বলেন, আমার মেয়েটা খুব ভালো ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নানামুখী নির্যাতন চালিয়ে আসছিল হাফিজ। নির্যাতনের ঘটনায় আমি গত ২৫জুন রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী ঘাতক হাফিজের ফাঁসি চাই।
অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা মুঠোফোনে জানান, ১৬ জুন সকালে সায়মা স্থানীয় সোনাপুর বাজারে গিয়ে এরোক্সন নামে একটি বিষের বোতল কিনে আনে। বিকেলে সে ওই বিষ খেয়ে ভুমি করতে করতে পরে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে আমি হাসপাতাল নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে আগেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে গতকাল আমরা একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে একজন নারী বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন মর্মে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা শেরেবাংলা নগর থানাকে সুরতহাল রিপোর্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে পাঠানোর জন্য পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছি। নথিপত্র হাতে পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
