আবু তাহরে,রামগঞ্জ প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রহিমা বেগম (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার, দিবাগত রাত ৯টায় রামগঞ্জ পৌর শহরের বায়োপ্যাথ জেনারেল হাসপাতালে। নিহত ৩সন্তানের জননী রহিমা বেগম উপজেলার ৬নং লামচর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলী মিয়া ব্যাপারী বাড়ির মোঃ ইব্রাহিমের স্ত্রী।
এই ঘটনায় নিহত রহিমার বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে রমগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রহিমার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে জড়ো হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহ ডাক্তার ও নার্স স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানার এস আই কাউসারুজ্জামান ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রসুলপুর গ্রামের রহিমা বেগম নামের এক রোগী শারীরিক জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বায়োপ্যাথ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ওই রোগীকে ব্যথানাশক হাই এন্টিবায়টিক একটি ইনজেকশন পুশ করলে তাৎক্ষণিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে অজ্ঞানের তিন ঘন্টা পর রহিমা হাসপাতালেই মৃত্যু বরণ করেন। মত্যুর সংবাদ শুনে হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা পালিয়ে যায়।
মৃত রহিমা বেগমের ছেলে মাজহারুল ইসলাম জানান, সামান্য জ্বর নিয়ে মা অসুস্থবোধ করায় তাকে দ্রুত বায়োপ্যাথ হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালের এমডি ডাঃ লোকমান উদ্দিন আজাদ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে আমার মাকে হাই এন্টিবায়টিক ইনজেকশন পুশ করলে মা সাথে সাথে মৃত্যুবরণ করেন। আমি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ সহ জড়িত সকলের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাই।
অভিযুক্ত বায়োপ্যাথ হাসপাতালের ডাক্তার লোকমান উদ্দিন আজাদ জানান,জ্বর, সর্দি নিয়ে হসপিটালে আসেন রহিমা বেগম। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। এছাড়াও রোগীর অবস্থা আগেই খারাপ ছিল। তবে অবহেলা ও ভূল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ সঠিক নয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনার পর পরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত রহিমার ছেলে বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
