চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় অনিয়ম ও দুর্নীতির শীর্ষে 

শেয়ার
মোঃ বদিউজ্জামান (তুহিন), নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চৌমুহনী  মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়।  বার্ষিক হিসাবে অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি
ঐতিহ্যবাহী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। অভিযোগ ওঠেছে, এখানে শিক্ষার বদলে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সদস্য প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, ১৯১৭ সালে চৌমুহনীর তৎকালীন জমিদার শিক্ষানুরাগী নিঃসন্তান মদন মোহন রায় চৌধুরী শিক্ষাবিস্তারে নোয়াখালী চৌমুহনী বাজারে প্রায় পাঁচ একর জায়গা দান করেন।
তাঁর অর্থে তাঁরই নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়-ব্যয় ৫০ কোটি টাকার মতো। বর্তমানে এখানে দুই শিফটে প্রায় তিন হাজার ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৭৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পাস করে।
স্কুলে একটি ৮তলা বাণিজ্যিক ভবন ও ফ্ল্যাট রয়েছে। আরো আছে একটি ৪তলা ভবন। এসব ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় হয় স্কুলের। এছাড়া অফিস, অডিটোরিয়াম, কম্পিউটার ল্যাব, ক্লাসরুম ও সভাপতি কার্যালয়সহ পাঠ্যক্রম চালানোর জন্য তিনটি দোতলা মূল ভবন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ একটি চক্র স্কুল থেকে আর্থিক ফায়দা লুটতে নানা কূটকৌশলে ব্যস্ত।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছে একটি অসাধু চক্র। এরা স্কুল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে এসব দুর্নীতি, শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করে প্রধান শিক্ষককে একটি আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে বলা হয় এবং একটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়।
’
ওই অডিট কমিটির প্রধান ছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক। অডিটে তিনি বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছেন বলে জানান। প্রধান শিক্ষক পুরো হিসাব না দিয়ে মাত্র ৪ মাসের হিসাব দাখিল করেন। যাতে বিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক ভবনের আয়-ব্যয়ের হিসাব নেই। অডিট কমিটি এ সংক্রান্ত ৯টি অনিয়ম পেয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আবু বকর বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। কোনো প্রকল্প কমিটিও করা হয়নি। বাণিজ্যিক ভবনে ফ্ল্যাট ও দোকান বিক্রি সবই হয়েছে নানা অনিয়মে। এতে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান তারেকসহ একটি চক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেছেন।’
জানতে চাইলে অডিট কমিটির অন্যতম সদস্য মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যা বলার অডিট রিপোর্টে বলেছি।’ এর বেশি কিছু বলতে রাজী হননি তিনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান তারেক দ্য কান্ট্রি টুডে দৈনিক রুপবানী ও পল্লী নিউজ কে বলেন, ‘এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আবু বকর ছিদ্দিক টিপুর কোনো সন্তান এখানে পড়ালেখা করে না। আগামী কমিটিতে তাঁকে বাদ দেব জানতে পেরে তিনি নানা অপপ্রচার করছেন।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.