প্রদীপ কুমার রায়, বিশেষ প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হায়দরগঞ্জ-রায়পুর সড়কের পৌরসভা অংশে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশের ১০ মাস পার হলেও প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। অথচ ১২ মাসের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে বাকি আর দুই মাস। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজের ধীরগতিতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটির স্তূপ পড়ে রয়েছে। এতে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ড্রেনের পাশে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে এসব গর্ত ভরাট না করায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খননের পর গভীর রাতে ট্রাকে করে সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বাধা দিলে অবশিষ্ট মাটি সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে সড়কে মাটির স্তূপ জমে থাকলেও তা সরানোর উদ্যোগ নেই। এক মাস আগে পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুন্নবীকে ড্রেনের পাশের গর্তগুলো ভরাট করার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই থেমে থেমে চলছে। কখনো কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকে, আবার কখনো মাত্র দুই-তিনজন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করার পরও কাজের গতি বাড়েনি। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরেও কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের নিয়োজিত সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহেল আলম বলেন, বিভিন্ন কারিগরি জটিলতা ও অর্থসংকটের কারণে কাজের অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি।
রায়পুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুন্নবী বলেন, কাজের ধীরগতির বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে তদারকি করেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন তিনি।
দ্রুত সড়কের ওপর থেকে মাটি অপসারণ, ড্রেনের পাশের গর্ত ভরাট এবং পর্যাপ্ত শ্রমিক নিয়োগ করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে মাটি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
