এহসান রিয়াজ,কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মো.ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, জাতীয় ঐক্য, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই দেশ ও জাতির অগ্রগতিকে রুখে দিতে পারবে না।
মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪ টায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার নিজ জন্মস্থান মোক্তার বাড়ির প্রাঙ্গণে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পারিবারিকভাবে মোক্তার পরিবার এই সভার আয়োজন করে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন,
বিগত শাসকগোষ্ঠীর সময় আমরা অমানুষিক কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেছি। দেশের ওপর, দেশের মানুষের ওপর এবং আমাদের প্রত্যেকের ওপর অপূরণীয় অন্যায় ও জুলুম করা হয়েছে। আপনারা সবাই হাড়ভাঙা সেই ত্যাগের কথা মনে-প্রাণে জানেন ও অনুভব করেন। তাই আপনারা সবাই সর্বাবস্থায় ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
তিনি আরো বলেন,গণতান্ত্রিক চর্চায় নানা মত ও পথের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। একজন আরেকজনের সাথে একমত না-ও হতে পারে। এই মতানৈক্য, মতদ্বৈততা বা মতবিরোধই হলো গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য।
কিন্তু দিনশেষে আমাদের একটাই মূল পরিচয়, এ দেশ আমাদের, দেশের সার্বভৌমত্ব আমাদের। সবকিছুর আগে আমাদের কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ যা আমাদের দল ও সরকারের মূল ভিশন।
তিনি বলেন, মনে রাখবেন, আমাদের জাতীয় ঐক্য, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কখনোই কোনো আপস করবো না। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন, কোনো শক্তিই আমাদের অগ্রগতি থামিয়ে রাখতে পারবে না এবং আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
এসময় তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
এর আগে তিনি হাজিরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল সামগ্রী প্রদান করেন।
এ সময় তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ খাতের উন্নয়নে চলতি বছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী চার বছরে আমাদের জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে ৩০ শয্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে আরো ২০ শয্যা যুক্ত করে একে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ-জামান, রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন, শ্রম মন্তণালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার নাহিদুল ইসলাম প্রিন্স,কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবর রহমান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকতারুল ইসলাম, আলেকজান্ডার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন মিঠু,কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলম এবং রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান।
আরো উপস্থিত ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো.ফরহাদ হোসেন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন, রামগতি পৌর বিএনপির সভাপতি সাহেদ আলী পটু, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু। এছাড়াও উপদেষ্টার পারিবারিক আক্মীয় মাস্টার মোশারফ হোসেন, জসিম উদ্দিন স্বপন, এ কে এম আজাদ উদ্দিন, আবদুল বাতেন বিপ্লব, দেলোয়ার হোসেন মানিক, আকবর হোসেন মিল্লাত, আবুল বাছেত খোকনসহ মোক্তার পরিবারের স্বজন, স্থানীয় ও দলীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
