আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ঢাকায় খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের সৌদি প্রবাসী মনির হোসেন (৪৫), তাঁর অন্তসত্তা স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (৩৬) ও ছেলে নাঈম ইসলামকে (১৮) হত্যার অভিযোগে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের আথাকরা বাজারে দোকানপাট বন্ধ রেখে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। এতে স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
এদিকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিএমপির ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক কামরুজ্জামান শিকদার নিহত মনিরের গ্রামের বাড়ি রামগঞ্জ উপজেলার দেহলা গ্রামে যান। সেখানে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মজুমদার, সাবেক সদস্য মো. বাচ্চু, নিহত মনিরের ভাই রুহুল আমিন, চাচাতো ভাই জাকির হোসেন, ছেলে রাহাতুল ইসলাম বাপ্পী ও রায়হান ইসলাম নিহান।
মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত মনির হোসেন উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের ছেরাজুল হক বেপারী বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাতেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুন প্রতিবন্ধী ছেলে নাঈম ইসলামকে চিকিৎসার জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যান। চিকিৎসকের সিরিয়াল না পাওয়ায় ওই রাতে মগবাজারের একটি হোটেলে অবস্থান করেন তারা।
পরিবারের দাবি, রাতে হোটেলে খাবার খাওয়ার পর তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন তাদের রাজধানীর আদ্-দীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সকালে স্বপ্না আক্তার, কিছুক্ষণ পর নাঈম এবং দুপুরের দিকে মনির হোসেন মারা যান। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন। পরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই নিহত মনিরের ভাই প্রবাসী নুরুল আমিন বাদী হয়ে ঢাকা রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
নিহত মনিরের ভাই রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, রফিক আমার ভাই ভাবি ও ভাতিজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। সে আমার ভাইয়ের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে বের হয়ে এখন আমাদের হুমকি দিচ্ছে।
তবে মামলার তদন্ত নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অগ্রগতি না হওয়ার অভিযোগ থাকলেও পিবিআই বলছে, তদন্ত চলমান রয়েছে।
পিবিআই ডিএমপির ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, মনির ও তাঁর স্ত্রী-ছেলেকে হত্যার ঘটনায় রফিক নামে একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। তদন্তের স্বার্থে তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের জন্য মনিরের গ্রামের বাড়িতে এসেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরাও চাই মনির ও তাঁর স্ত্রী-সন্তান নিহতের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি হোক।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
