লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় সংঘটিত এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এক কৃষকের গোয়াল ঘরসহ তার জীবনের অর্জিত সঞ্চয়। উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মোস্তাফা মিয়ার বাড়িতে রোববার (১৫ জুন) গভীর রাতে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। আগুনে পুড়ে মারা গেছে তার ৪টি গরু, ২০০-রও বেশি হাঁস ও ২৫টি কবুতর।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোস্তাফা মিয়ার ছেলে আবুল কালাম জানান, রাত আনুমানিক একটার দিকে হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তাদের। দরজা খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখতে পান গোয়াল ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চোখের সামনে পুড়ে মরেছে গরু, হাঁস ও কবুতরের মতো নিরীহ প্রাণীগুলো।
তিনি আরো জানান, গরুগুলোর প্রতিটির দামই ছিল লক্ষাধিক টাকা। হাঁস ও কবুতরগুলোও ছিল বিক্রির উপযোগী। সবমিলিয়ে তাদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তারা। গরু চুরি ঠেকাতে সদা সতর্ক থাকলেও এমন নির্মম ঘটনায় বাকরুদ্ধ পুরো পরিবার।
এলাকাবাসীর ধারণা, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। গরু চুরি করতে না পেরে দুষ্কৃতকারীরা পেট্রল ঢেলে গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার সময় আশপাশে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনার ভয়াবহতায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গ্রামে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এই নির্মম ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতিই নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির দুর্দশার এক প্রতিচ্ছবি। কৃষক মোস্তাফার চোখের পানি যেন এ দেশের হাজারো প্রান্তিক খামারির কান্নার প্রতিধ্বনি। অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন সচেতন এলাকাবাসী।
