মইনুল আবেদিন খান, বরগুনা প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে বলেশ্বর নদী থেকে গভীর বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হামলার শিকার হয় ভাই ভাই নামে বরগুনার একটি মাছ ধরার ট্রলারের ১৮ জেলে। এ সময় জলদস্যুদের হামলা থেকে বাঁচতে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন ৯ জেলে। ঘটনার তিনদিন পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৪ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন জেলেরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মধ্যে একজন মৃতবরণ করেন। এরপর নিখোঁজ ৫ জেলের মধ্যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় আজ।
নিহত জেলেরা হলেন, কাইয়ুম মাঝি ও আবুল কালাম। এদের মধ্যে কাইউম মাঝির বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার চামু পাড়া এলাকায় আর আবুল কালামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার রায়ভোগ চৌমুহুনী এলাকায়। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ জেলেরা হলেন, ফরিদ, খাইরুল এবং আব্দুল আলীম।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সমুদ্রে মাছ শিকাররত জেলেদের তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজদের স্বজনরা সমুদ্রে খোঁজাখুজি করে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভাই ভাই ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ মিরাজ বলেন, এ ঘটনায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালি থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে আমি একটি মামলা দায়ের করেছি।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট শাফায়েত আবরার বলেন, সমুদ্র থেকে নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহের উদ্ধারের খবর আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় আইনগতভাবে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য আমরা সচেষ্ট রয়েছি।
