আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
পরকীয়ার সংবাদে স্ত্রীকে না জানিয়ে দেশে ফেরার অপরাধে চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে কামাল হোসেন (৩৬) নামের এক রেমিটেন্স যোদ্ধা স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তন করেছে স্ত্রী আয়েশা বেগম। বুধবার গভীর রাতে ঢাকা শনির আখড়ার গোবিন্দপুরে প্রবাসীর নিজ ফ্লাট বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সৃষ্ট ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। কামাল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার সাউধেরখিল গ্রামের আঠিয়া বাড়ির মোঃ মফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং আয়েশা বেগম রামগঞ্জ পৌরসভার কলচমা ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলী মুন্সী বাড়ি প্রকাশ হুতার বেরীগো বাড়ির আবুল হোসেনের মেয়ে। বর্তমানে কামাল হোসেন মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকায় ফার্মগেইটে একটি (প্রাঃ) হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, বিগত ৯বছর পূর্বে পারিবারিক সম্মতিতে কামালের সাথে আয়েশার বিয়ে হয়। এরপর তাদের ঘরে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে কামাল রিজিকে সন্ধানে সৌদি আরব যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় ঢাকা শনির আখড়ার গোবিন্দপুর একটি ফ্লাট বাসা ক্রয় করেন। গেলো বছর দুয়েক পূর্বে দেশে এসে কন্যা সন্তান সহ স্ত্রীকে ওই ফ্লাট বাসায় রেখে ফের বিদেশ যায় কামাল। এর কিছুদিন পর থেকে আয়েশা বেপরোয়া চলাফেরা শুরু করে। শিশু সন্তানদের বাসায় রেখে গভীর রাত পর্যন্ত থাকেন বাহিরে। গ্রামের বাড়ি থেকে বৃদ্ধ শশুর সহ আতœীয়-স্বজন এলে আয়েশা তাদের সাথে করেন রূঢ় আচরন করেন। এমন অভিযোগে স্বামী কামাল স্ত্রীকে না জানিয়েই গেলো কোরবানী ঈদের কয়েকদিন পূর্বে দেশে এলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয় বলে জানান কামালের বোন জোসনা বেগম।
এর সূত্র ধরে বুধবার রাতে আয়েশা বেগম ভাত ও দুধের সাথে চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামী কামালের গোপনাঙ্গ কেটে দেয়। সংবাদ পেয়ে উভয় পরিবারের আতœীয়-স্বজন ঢাকায় গিয়ে কামালকে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতাল ভর্তি করে। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন। সৃষ্ট ঘটনায় কামালের ভাই গোলাম হোসেন বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এব্যাপারে যাত্রাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কামালের গোপনাঙ্গের অর্ধেকের বেশী কেটে গেছে বলে জানান এবং মামলার প্রেক্ষিতে আসামী আয়েশা বেগমকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
