রায়পুরে হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তা পেল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও রফিকউল্ল্যা

শেয়ার

 

প্রদীপ কুমার রায়, বিশেষ প্রতিনিধি:

একজনের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না, হাঁটতেও পারে না। দিনের প্রায় পুরো সময়ই মায়ের কোলে থাকতে হয় তাকে। অন্যজন দুই পা হারিয়েছেন ১৯৬১ সালে। একটি চেয়ার ও টেবিল নিয়ে ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। দুজনেরই চলাফেরার  জন্য ছিল না একটি হুইলচেয়ার।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এমন দুই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটিকে একটি হুইলচেয়ার এবং দুই পা হারানো রফিকউল্ল্যা মিয়াকে হুইলচেয়ারের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
রায়পুর উপজেলার ৬ নম্বর কেরোয়া ইউনিয়নের পাঁচ বছরের শিশুটিকে দিনের বেশির ভাগ সময় মায়ের কোলে থাকতে হয়। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তার জন্য একটি হুইলচেয়ার কেনাও সম্ভব হয়নি।  বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শিশুটির জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার, তাঁর গোপনীয় সহকারী ফয়সাল আজিম ও শিশুটির মা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, উপজেলার বামনী ইউনিয়নের রফিকউল্ল্যা মিয়া ১৯৬১ সালে দুই পা হারান। দীর্ঘদিন ধরে একটি চেয়ার ও টেবিল নিয়ে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। সরকারি সহায়তার জন্য কোথায় আবেদন করতে হয়, সেটিও জানতেন না।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাঁর অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন,  অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। বিষয়গুলো জানার পর প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
রফিকউল্ল্যাকে হুইলচেয়ার দেওয়ার সময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদ হোসেন, রায়পুর এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবর রহমান লিটনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান শিক্ষক মাহবুবর রহমান লিটন বলেন, অসহায় মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন যেভাবে দ্রুত এগিয়ে এসেছে, তা প্রশংসনীয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা পেলে এ ধরনের মানুষ নতুন করে বাঁচার সাহস পান।
স্থানীয়রা জানান, দুই পা হারানোর পরও রফিকউল্ল্যা কারও ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন। তাঁর দোকানটি শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, আত্মনির্ভর হয়ে বেঁচে থাকারও একটি অবলম্বন।
আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটির পরিবারের জন্য হুইলচেয়ারটি মায়ের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা কমাবে। একই সঙ্গে শিশুটির চলাফেরায় তৈরি হবে  নতুন সুযোগ।
উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে অসহায় মানুষের প্রতি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদেরও এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.