রুবেল চক্রবর্তী,জেলা প্রতিনিধি ভোলা:
কথায় আছে, গণেশের আগমনে আসে গৌরীর আগমন বার্তা। আর সেই বিশ্বাসকে ঘিরেই বাংলায় দুর্গাপুজোর আবহের সঙ্গে যেন ধীরে ধীরে জুড়ে যাচ্ছে আর এক উৎসব—গণেশ চতুর্থী।
তারই ধারাবাহিকতায়
ভোলার তজুমদ্দিনে শিবনন্দন সংঘের আয়োজনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী গণেশ পূজা।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী তজুমদ্দিন উপজেলার শ্রী শ্রী প্রিয়নাথ গোস্বামীর জিউর মন্দির সংলগ্ন মাঠে এই পূজার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পূজা মণ্ডপ।
সকাল ৮টায় গণেশের প্রতিমা স্থাপন, প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে চলে ভজন, কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণ। সন্ধ্যায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন,আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা যায়, প্রথম বছরের মত এবার সার্বজনীনভাবে এই পূজার আয়োজন করেছে সিবনন্দন সংঘ। পূজা উপলক্ষে মন্দির রঙিন আলোকসজ্জা ও ফুলে ফুলে সাজানো হয়।
সিবনন্দন সংঘের উপদেষ্টা সাগর দত্ত বলেন তজুমদ্দিনে এই প্রথম গণেশ পূজার আয়োজন করে সিবনন্দন সংঘ। সিবনন্দন সংঘ প্রতিষ্ঠাতার পর থেকে আমাদের চিন্তা ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের নতুন করে সজাগ করা। সনাতনী ও সকলের সহযোগিতায় সিবনন্দন সংঘ এগিয়ে যাবে অনেক দুর।
পূজা উদযাপন ও শিবনন্দন সংঘের সভাপতি দূর্জয় বিশ্বাস বলেন, “বিঘ্নহর্তা শ্রী গণেশ সকল অশুভ শক্তিকে দূর করে শুভ শক্তির সূচনা করেন। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে আমরা এবছর এই পূজার আয়োজন করেছি।
সাধারণ সম্পাদক কপিল দাস বলেন, তজুমদ্দিনে সনাতন ধর্মালম্বী নবীনদের সদ্য আত্মপ্রকাশ হওয়া প্রানের সংগঠন সিবনন্দন সংঘ গণেশ পূজার আয়োজন করে। গণেশ হলেন ‘প্রথম পূজ্য’ দেবতা। যে কোনও শুভ কাজ, বিদ্যাচর্চা বা বাণিজ্যের সূচনায় তাঁর আরাধনা বাধ্যতামূলক। পৌরাণিক বিশ্বাস মতে, পার্বতীর কায়মনোভাব থেকে সৃষ্টি গণেশের মস্তক শিবের ত্রিশূলে ছিন্ন হলে, পরবর্তীতে গজমুণ্ড সংযোগে তিনি পুনর্জীবন পান। ভাদ্রে তাঁর এই মর্ত্যে আগমন ও জন্মতিথিই গণেশ চতুর্থী নামে খ্যাত।
পুজায় আগত ভক্ত অন্তরা দেবনাথ বলেন, তজুমদ্দিনে এই প্রথম গণেশ পূজার আয়োজন দেখলাম। এসে অনেক ভালো লাগলো। আমরা চাই সমনের দিনে আরো জমকালো আয়োজনের মধ্য গণেশ পূজার আয়োজন করবে সিবনন্দন সংঘ।
এ সময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সহ বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পূজা নির্বিঘ্ন করতে তজুমদ্দিন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
সবশেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
