কমলনগরে ধর্ষণ চাপা দিতে মাতাব্বররা তৎপর, তরুণ আটক

শেয়ার

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েক মাতাব্বর তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। তবে টাকা নয়, ঘটনার বিচার চায় ক্ষতিগ্রস্থ কিশোরী ও তার পরিবার। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায়ও ভূগছেন তারা। এদিকে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মো. দিদারকে (২২) সোমবার (১জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পাশ্ববর্তী রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর পাড় থেকে পুলিশ আটক করেছে। দিদার কমলনগর উপজেলার চর ফলকন গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাক্টর ট্রলি চালক। ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরী নদী ভাঙ্গনের শিকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৬ ডিসেম্বর ক্ষতিগ্রস্থ কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে অভিযুক্ত দিদার ও তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বর নিজেদের পকেট ভারি করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই টাকার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থকে ৪০হাজার টাকা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হয়েছে। কিশোরীর পরিবার তাতে কর্ণপাত করেনি। এতে ভাগ ভাটোয়ারার মিশন ভেস্তে যাওয়ায় মাতাব্বরদের মধ্যে একাধিকবার হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ ও কিশোরীর ভাষ্যমতে, এক বছর আগে মোবাইল রিচার্জের দোকান থেকে কৌশলে দিদার তার (কিশোরী) মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। এরপর থেকে ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করা হয়। ভালোবাসার কথা বলে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় গত বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে ঘর থেকে বের হলে উৎপেতে থাকা দিদার তাকে মুখ চেপে ধরে। পরে তাকে বাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।এসময় চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে দিদারকে আটক করে। পরে ফলকন ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ইব্রাহীম খলিল ও স্থানীয় মো. সিরাজ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়।

ওই কিশোরী বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় মাতাব্বরা টাকার বিনিময়ে রফাদফা করার চেষ্টা করছে। আমি টাকা না, বিচার চাই। বর্তমানে আমার পরিবারের সদস্যরা আতংকে রয়েছে। এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্রবিশ্বাস বলেন, টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টার বিষয় আমার জানা নেই। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। এটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.