শিব্বির দেওয়ান:
কমলনগর উপজেলার চর ফল কন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইয়ানুর (৩৫)। জাজিরা গ্রামের দেওয়ান মার্কেট সংলগ্ন বসবাস। সম্বল বলতে বসতবাড়ি টুকু। এক বছর আগে স্বামী স্ত্রী রিক্সাযোগে বাজারে যাওয়ার পথে বিপরীত থেকে আসা ট্রাকটর টলির ধাক্কায় এক্সিডেন্ট করে দুজন মারাত্মক আহত হয়।
বাবা মা হারা ইয়ানুরের হাত ভেঙ্গে যায়। ঘাড়ে ব্যাপক ব্যাথা পায়। ইয়ানুরের স্বামী আনোয়ার হোসেন (৪০)মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়। মাথা ফেটে ভিতরে রক্তক্ষরন হয় ব্রেন অকেজো হয়ে পড়ে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করেছে। একমাস চিকিৎসা শেষে চিকিৎসা অবস্হায় মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যু কালে তিন সন্তান রেখে যান মৃত আনোয়ার হোসেন । ছোট তিন সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে কাটে ইয়ানুর বেগমের জীবন।
স্বামীর মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়েন ইয়ানুর। কর্মহীন সংসারে মানবেতর জীবনঝাপন। লবন আনতে পান্ত ফুরায় অবস্হা। সরকারী সুবিধা সমূহের বিধবা ভাতা পঙ্গু ভাতা কিংবা ভিজিডি কার্ড কোন সেবা ই মিলেনি এতিম স্বামী হারা ইয়ানুরের ভাগ্যে। অসহায়কৃত ইয়ানুরেরা এই সমাজের বোঝা। এই বোঝা বইবার দায়িত্ব কেউ নিতে চায় না। ইয়ানুরেরা অধিকার বঞ্চিত। সেবা ক্রয় বিক্রয়ে ইয়ানুরদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন নয়।
ইয়ানুরের দুঃখ লাঘবে আশা করি উপজেলা প্রশাসন এগিয়ে আসবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
ইয়ানুরের স্বামী ছিলেন একজন রিক্সা শ্রমিক। তার বাড়ি রংপুর হলে ও ইয়ানুরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শ্বশুর এলাকাকমলনগরের চর ফল কন ইউনিয়নে বসবাস শুরু করেন। মৃত্যুর পর তার লাশ পরিবার পরিজন নিয়ে গেলে ও ইয়ানুরের ঠাঁই মিলেনি স্বামীর বাড়িতে। ইয়ানুর বাবার একটুকরো জমিতে স্বামীর তোলা ঘরেই জীবন পাড় করছেন অভাবের সংসারে।
