রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর ঠিকা গ্রামের পাটোয়ারী মাঝি বাড়ির মো. সবুজ গাছি (৩৮)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পরিবারের আহার জোগাতে প্রতিদিন এক হাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠে চলেন উঁচু উঁচু নারকেল গাছে।
২০১৮ সালে একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন সবুজ। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি হাত চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঠোঁটে গুরুতর আঘাত পান। দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও অভাবের সংসারে মেলেনি পর্যাপ্ত চিকিৎসা। চার সন্তান ও স্ত্রীসহ ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে গিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। শারীরিক পঙ্গুত্বকে তোয়াক্কা না করে ছেনি বা হাইসা মুখে চেপে ধরে এক হাতেই নারকেল গাছ ছিলে সংসার চালানোর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এই লড়াকু মানুষটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুখে ছেনি চেপে ধরে উঁচু নারকেল গাছে উঠছেন সবুজ গাছি। কিন্তু এক হাতের উপার্জনে ৬ জনের সংসার চালানো এখন তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পরিবারটির থাকার মতো একটি ভালো বসতঘর কিংবা পরিচ্ছন্ন শৌচাগার নেই। ঠিকমতো দুবেলা দুমুঠো খাবারের সংস্থান করতেই পরিবারটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সবুজ গাছি আকুতি জানিয়ে বলেন, ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে হাত হারিয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েছি। এখন ৪ ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীসহ ৬ জনের সংসার চালানো খুব কষ্টের। মুখে ছেনি নিয়ে নারকেল গাছে উঠে কোনোমতে দিন পার করছি। কিন্তু আমাদের থাকার মতো ঘর নেই, টয়লেট নেই, ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াই জোটে না।
সবুজের পরিবারের চার সন্তান মরিয়ম আক্তার, ফাতেমা আক্তার, জান্নাত আক্তার ও ছেলে মো. ইয়াসিন আরাফাত। সবুজের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম ও বৃদ্ধা মা শেফালি বেগম জানান, বড় দুই মেয়ে মরিয়ম ও ফাতেমা এখন বিয়ের উপযুক্ত। কিন্তু মাথা গোঁজার মতো একটা বসতঘর না থাকায় তাঁদের বিয়ে দিতে পারছেন না।
অভাব, পঙ্গুত্ব আর উপযুক্ত বসতঘরের অভাবে দিশেহারা পঙ্গু সবুজের পরিবার। একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই, শৌচাগার নির্মাণ এবং কন্যাদের সামাজিক পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান এবং হৃদয়বান মানুষদের জরুরি মানবিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী
