আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কচুয়া আহমদিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ঘোষিত তপসিল অনুযায়ী আগামী ২৪মার্চ অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। সে লক্ষে সম্পন্ন করা হয়েছে সকল প্রস্তুতিও। অথচ তপসিলে নির্ধারিত তারিখে ১০দিন অতিবাহিত হলেও প্রার্থীগনকে দেওয়া হয়নি তাদের প্রতিক। নোটিশ বোর্ডে ঝুলানো হয়নি মনোনয়নপত্র যাচাই বাচাইয়ের ফলাফল। বরং বৈধ দাতা সদস্যদের ভোটার না করে সম্পূর্ণ অনৈতিক ভাবে গোলাম সরোয়ার নামের জনৈক ব্যাক্তির নাম দাতা ক্যাটাগরির চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তভূক্তি করার অভিযোগে স্থানীয় ভাবে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার কচুয়া আহমদিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওঃ শাহ আলম এবং প্রিজাইডিং অফিসার রামগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শরীফুল্লাহ আশ শামস্ যৌথভাবে এ অনিয়ম সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ প্রার্থীদের।
এ নিয়ে মহিন উদ্দিন নামের একজন দাতা সদস্য প্রার্থী রোববার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কতৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় মোঃ শাহীন আলম, মোঃ মাজেদ হোসেন, মজিব উল্যা সহ বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, কচুয়া আহমদিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদ্রাসার গভর্নিং বডির নির্বাচনে ২৫কে ঘিরে গত ১জানুয়ারী নির্বাচন কমিশনার কতৃক তপসিল ঘোষনা করা হয়। ওই তপসিলে ২৪মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারন করা হয়। সে মোতাবেক ২৪ফেব্রুয়ারী মনোনয়নপত্র অহবানের প্রেক্ষিতে ২৭ ফেব্রুয়ারী প্রার্থীগন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। যার আলোকে ১লা মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাচাই সহ প্রতিক নির্ধারনের শর্ত থাকলেও ৫মার্চ নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত নোটিশ বোর্ডে ঝুলানো হয়নি নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যাবলীর বৃত্তান্ত। এতেই এলাকাব্যাপী উঠে সমালোচনার ঝড়।
মহিন উদ্দিন এবং মোঃ মাসুদ আলম নামের দাতা সদস্য প্রার্থীগন জানান, সকল শর্ত পুরনের পরও নির্বাচন কমিশনার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওঃ শাহ আলম এবং প্রিজাইডিং অফিসার শরীফুল্লাহ আশ শামস তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল করলেও তারা তা জানাননি। বিষয়টি গোপনে জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এর কোন সঠিক উত্তর পাননি তারা। তবে জানতে পারেন শর্ত পূরন না করলেও গোলাম সরোয়ার নামে একজনকে বেআইনী ভোটার করে তাকে দাতা সদস্য বানানোর উদ্দেশ্যে বৈধ করেছেন তার মনোনয়নপত্র।
এসময় আরো বেশ কয়েকজন অভিভাবক পদ প্রার্থী অভিযোগ করে জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের কোন তথ্যই দেওয়া হচ্ছেনা। বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১০মার্চ) সকালে সরজমিন পরিদর্শকালে মাদ্রার কেরানী মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, ২মার্চ সন্ধারপর বোর্ডে নোটিশ ঝুলানো হয়েছে তবে সকালে এসে তার আর দেখতে পাইনি। বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নির্বাচন কমিশনারই ভালো জানেন। নির্বাচন কমিশানার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ শাহ আলম জানান, নিয়ম আর অনিয়ম যাই হোক না কেনো সব করেছেন কেরানী হেলাল উদ্দিন।
এ নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা একাডেমিক সুপারভাই ভাইজার ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফুল্লাহ আশ শামস জানান, রোববার মহিন উদ্দিন নামের একজন দাতা সদস্য প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও রিটার্নিং অফিসার স¤্রাট খীসার সাতে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
