রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বসতবাড়ির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মো. রাজ্জাক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এসময় হামলা করে ভুক্তভোগী পরিবারের রান্নাঘরও ভাঙচুর করে অভিযুক্তরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. ইউনুস (৩৫) ওই এলাকার মৃত মফিজ উল্লাহর ছেলে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে প্রতিবেশী মো. আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) ও তার ছেলে রেজাউল করিম স্বপন (২২)-এর বিরুদ্ধে কমলনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২ ০১৬ সালে স্থানীয় মো. আক্তার হোসেনের কাছ থেকে ১৪ শতক জমি ক্রয় করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন ইউনুস। পরবর্তীতে ওই বাড়ির পেছনের অংশে একই মালিকের কাছ থেকে ৩ শতক জমি ক্রয় করেন প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক। আব্দুর রাজ্জাক তার ক্রয়কৃত ৩ শতক জমি ভোগদখল করার পরেও দীর্ঘ দিন ধরে ইউনুসের সামনের বসতবাড়িটি দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছিলেন।
ঘটনার দিন সকালে ইউনুসের পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ায় বাড়ি ফাঁকা পেয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে স্বপন ভুক্তভোগীদের বাড়িতে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা নারিকেল ও সুপারি গাছসহ প্রায় ২০-৩০টি ফলজ ও বনজ বৃক্ষ কেটে নষ্ট করে ফেলে। এছাড়া বসতঘর সংলগ্ন রান্নাঘরও ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ইউনুস জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
জমি বিক্রেতা আক্তার হোসেনের ভাই স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল জানান, “ইউনুসের বাড়ির পেছনে রাজ্জাক ৩ শতক জমি কিনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঝামেলা করার চেষ্টা করছে। পেশিশক্তির জোর দেখিয়ে গাছকাটা ও ভাঙচুর করা একেবারেই অনুচিত কাজ হয়েছে।”
ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগে তারা গায়ের জোরে ভিটেবাড়িতে ঢুকে ২০-৩০টি গাছ কেটে নিযে গেছে। রান্নাঘর ভাঙচুর করেছে। আমরা খবর পেয়ে বাধা দিতে গেলে উল্টো আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমরা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সরেজমিনে গিয়ে তাদের পরিবারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে উশৃঙ্খল আচরণ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ফরিদুল আলম জানান, “এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
