মোঃ সাব্বির হোসেন
গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরখালী গ্রামের বাসিন্দা রেকসোনা। স্বামীকে হারানোর পর চার মেয়েকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ ঘরও নেই। অন্যের জায়গায় ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিয়ে প্রতিদিন টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই অসহায় মা।
তার বসতঘরের চারপাশে পাতার জীর্ণ বেড়া। মাথার ওপর টিনের ছাউনি না থাকায় পলিথিন দিয়েই কোনো রকমে ঢেকে রাখা হয়েছে ঘরটি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পলিথিন ভেদ করে পানি পড়ে ঘরের ভেতরে। তখন চার মেয়েকে নিয়ে ভেজা মেঝেতে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় রেকসোনাকে।
অভাব-অনটনের কারণে চার মেয়ের কাউকেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না তিনি। যেখানে দুবেলা খাবারের সংস্থান করাই কঠিন, সেখানে শিক্ষার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
ফলে চারটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বর্তমানে রেকসোনার সংসার চলে মানুষের দান-অনুদান, পুরোনো কাপড়, ছেঁড়া কম্বল এবং প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করে। কোনো দিন খাবার জোটে, কোনো দিন জোটে না। তবুও সন্তানদের মুখের হাসি ধরে রাখতে প্রতিদিন নতুন করে
সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, রেকসোনার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন।
একটি নিরাপদ বাসস্থান, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা এবং শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা গেলে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের মানবিক আহ্বান—রেকসোনা ও তার চার মেয়ের পাশে দাঁড়ান। সামান্য সহায়তাই পারে একটি অসহায় পরিবারের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং চারটি শিশুর ভবিষ্যৎকে আলোকিত করতে।
