আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মেহেদী হাসান (১৪) নামের ৮ম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক সহস্ত্র উত্তেজিত জনতা মঙ্গলবার রাতে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমি নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। সংবাদ পেয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমান, রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ও চাটখিল থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুল মোন্নাফের যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ৬ঘন্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পরে উপজেলা প্রশাসন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ৭দিনের জন্য বন্ধ ঘোষনা করেন। নিহত মেহেদী হাসান রামগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর মোহনের বাড়ির জিয়া উদ্দিনের ছেলে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।
সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ৭১৪নাম্বার আবাসিক কক্ষে একটি মোবাইল সেট হারিয়ে যায়। যার সূত্র ধরে বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী দিনব্যাপী মেহেদী হাসানকে বেল্ট ও এসএস পাইপ দিয়ে মারধর করে। এতে সে মৃত্যুবরন করে। ঘটনার জানাজানিতে স্থানীয় লোকজন একাডেমি প্রাঙ্গনে জড়ো হতে থাকলে পেছনের দিক দিয়ে কে বা কারা চাটখিল সরকারী হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। এসময় মেহেদীর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। পরে উত্তেজিত জনসাধারন চাটখিল থানা প্রাঙ্গনে জড়ো হলে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মেহেদীর লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। এরপর উত্তেজিত কয়েমত সহ¯্র জনতা একডেমি প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটক, চেকপোষ্ট, মূল ভবনের জানালার গ্লাস ও দুটি গাড়ি ভাংচুর করে। এসময় প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল আঃ মন্নান সহ শিক্ষকগন পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে রাতেই প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত দেড়টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। পরে শান্তি বজায় রাখার লক্ষে উপজেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটি ৭দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
এদিকে মেহেদী হাসানের বাবা জিয়া উদ্দিন ও মা শারমিন আক্তার তাদের সন্তানকে পিটিয়ে হত্যার ব্যাপারে শিক্ষকগন জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এবং এ নিয়ে মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
ময়না তদন্ত শেষে বুধবার বেলা আড়াইটায় পুলিশ মেহেদীর লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তরের সময় উত্তেজিত জনগন প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া সহ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
