জামায়াতের প্রতিবা; তালিমের নামে ধর্ম ব্যবসা করা যাবে না- এমপি সেলিম

শেয়ার

 

আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৩১মে রবিবার বিকেলে উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এমপির এমন বক্তব্যকে ‘দায়িত্বহীন, বিভ্রান্তিকর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম মন্তব্য করেন, “তালিমের নামে ধর্ম ব্যবসা করা যাবে না, মসজিদে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য দেওয়া যাবে না, এগুলো বন্ধ করতে হবে, বন্ধ করতে না পারলে আমরা ভয়ানক বিপদের মুখে পড়ে যাব। এ বক্তব্যের প্রতিবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াত।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতেও সংসদ সদস্য বিভিন্ন সময়ে ধর্ম নিয়ে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা ধর্মপ্রান মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং সমাজে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।  বিশেষ করে নামাজ ও ইসলামী পর্দা পালনকারীদের নিয়ে তাঁর পূর্বেও একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, ওই মন্তব্যের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল।
রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর নাজমুল হাসান পাটোয়ারী বলেন, ইসলাম কেবল মসজিদ কেন্দ্রিক ইবাদত ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। রাসূল (সা.)-এর  প্রতিষ্ঠিত মসজিদে নববী ইবাদত, শিক্ষা, সমাজ সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের কেন্দ্র ছিল। তাই ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াত ও  সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে ‘ধর্ম ব্যবসা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা ইতিহাস, বাস্তবতা ও ইসলামী চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়াও পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ১০৪ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলা হয়, মুসলমানদের কল্যাণের দিকে আহ্বান, সৎকাজের নির্দেশ এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব রয়েছে।
জামায়াত নেতারা মনে করেন, জনগণের প্রকৃত সমস্যা সমাধান ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতি নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে ইসলামী দাওয়াতি কার্যক্রমকে আক্রমণ করা আদর্শিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচায়ক।
বিবৃতিতে এমপি শাহাদাত  হোসেন সেলিমের বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ধর্ম, মসজিদ, ইসলামী শিক্ষা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিষয়ে দায়িত্বশীল ও  সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান, মানুষের ঈমানি অনুভূতির মর্যাদা  রক্ষা এবং সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা করা সকল জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.