লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ঈদুল ফিতরের ষষ্ঠ দিনেও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন রুটে সিএনজি-অটোরিকশার চালকেরা ঈদ বখশিশের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিনিয়তই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সিএনজি-অটোরিকশার যাত্রীদের সাথে চালকদের বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকে। এতদিন পরেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা উঠলে চালকরা যাত্রীর প্রতি করেন অশোভন আচরণও।
শনিবার (৫এপ্রিল) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরের দক্ষিণ তেমুহনি থেকে রামগতি-কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কে গ্যাস রিফিলে অতিরিক্ত খরচের নামে যাত্রীদের জিম্মি করে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে চালকরা।
লক্ষ্মীপুর থেকে চৌরাস্তা ২০ টাকার ভাড়া ৩০-৪০, তোরাবগঞ্জের ভাড়া ৪০ এর স্থলে ৭০- ৮০ এবং করইতলা ৫০ এর স্থলে ৮০-১০০, লরেঞ্চ, হাজীরহাট প্রায় দেড়শো টাকা করে গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। চালকদের নিজস্ব রীতির মুখে জিম্মি হয়ে যাত্রীদেরও গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের আগের দিন থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ প্রায় সব রুটেই সিএনজি-অটোরিকশা চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়। তবে এক্ষেত্রে দূরপাল্লার বাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদারকি ও জরিমানা করলেও পার পেয়ে যায় সিএনজি-অটোরিকশার চালকেরা।
ইমতিয়াজ হোসাইন নামক এক যাত্রী জানান, ঈদের আগের দিন কর্মস্থল থেকে ফেরার পথেও বখশিশ দিয়েছি। মানলাম ঈদ ও তার পরেরদিনও নিবে। তাও সেটা আমরা সেচ্ছায় দিবো। কিন্তু ঈদের ষষ্ঠ দিনেও বাড়তি ভাড়া আদায়, এটা একপ্রকার বখশিশের নামে ওপেন চাঁদাবাজি।
মামুন নামে আরেক যাত্রী জানান, ঈদ এলে একটা পাগলামী শুরু হয়ে যায়। অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে গাড়িতেই নেয় না। তাই নিরুপায় হয়ে উঠতে হয়। তবে এক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার।
সিএনজি চালক মহসিন বলেন, ঈদ এলেই তো যাত্রীরা বখশিশ দেয়। নয়তো চলবো কী করে। সবকিছুর দাম-ই তো বেশি। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, জিম্মি করি না। সব চালক নিচ্ছে তাই আমি নিচ্ছি।
লক্ষ্মীপুর সিএনজি-অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মো. মনসুর বলেন, বখশিশ নেয়ার একটা সীমা আছে কিন্তু ঈদের পর এতদিনেও বখশিশ নিচ্ছে এটা অন্যায়। এর বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
