তারেক মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরে গ্রীণ লীফ ফিলিং স্টেশনের গ্যাস রিফিলের সময় বাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় চালক মো. রুবেল ও ও গ্যারেজ মেকানিক আবুল কালাম নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে পুলিশ সুপার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর একই ফিলিং স্টেশনে অন্য একটি বাসের সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিলের সময় বিস্ফোরণ ঘটে ৩ জন নিহত হয়। ওইদিন আরও ৯ জন আহত হয়েছে।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাজীব কুমার সরকার ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আকতার হোসেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
জানা যায়, ভোর ৩ টা ৫০ মিনিটের দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের মুক্তিগঞ্জ এলাকায় গ্রীন লাইফ ফিলিং স্টেশনে গ্যাস রিফিলের সময় বাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে রুবেল গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এছাড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মাথার খুলি উড়ে গিয়ে আবুল কালাম নামে এক রঙ মিস্ত্রি মারা যায়। একই সময় নোয়াখালীর কবির হাট এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন ও লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সাহাপুর এলাকার নাঈম আহত হয়। আহতদেরকে নোয়াখালী হাসপাতালে পাঠায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নিহত রুবেল রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের জমিদারহাট এলাকার চরসীতা গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে ও দুর্ঘটনা কবলিত আল মদীনা বাসের চালক ছিলেন। অপর নিহত কালাম লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সাহাপুর এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে ও পেশায় রঙ মেস্ত্রি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় গ্রীণ লীফ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আল মদীনা নামের লোকাল বাসটি (চট্ট মেট্টো-ঝ ১১-১৯৩০) গ্যাস রিফিল করছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে বাসের গ্যাস সিলিন্ডার ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মাথার খুলি উড়ে গিয়ে কালাম মারা যায়। বিস্ফোরণের ঘটনায় ছুটোছুটি শুরু করেন আশপাশের লোকজন, সিএনজি অটোরিকশা চালক ও ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা। পরে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নিহতের মরদেহ ও আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতাল ভর্তি করে।
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জয়নাল আবেদীন বলেন, বিস্ফোরণে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে একজন মারা গেছেন। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে আছে। আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে ঢাকায় ও অন্য দুইজনকে নোয়াখালী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যায়।
পুলিশ সুপার বলেন, একই ফিলিং স্টেশনে এর আগেও গ্যাস রিফিলের সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই মামলা এখনো চলমান। এখন আবার বিস্ফোরণের ঘটনায় ২ জন মারা গেছে ও ২ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, ২ মাসের ব্যবধানে দুইটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ব্যাপারে এর আগে বৈঠক করেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা করা হবে। আমরা ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি করবো। এছাড়াও নিহতের পরিবার – আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি
