নিজস্ব সংবাদদাতা-
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। জানা গেছে, এই আসনে বর্তমান প্রধান দুই দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গনঅধিকার পরিষদও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে। বিএনপির ধানেরশীষে দলীয় মনোনয়ন পেতে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তদবির শুরু হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোন্দলও প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আরও জানা যায়, বিএনপি ও জোট থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিজস্ব বলয়ে আটকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে জনসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে একাধিক নেতা মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকা পরিদর্শনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদানের মধ্য দিয়ে জনসংযোগ চালাচ্ছেন।
নেতাদের অনেকের মতে, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় এগিয়ে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদদিন নিজান। তিনি দুইবারের সংসদ সদস্য ও বিগত দিনে নেতা কর্মীদের আগলে রাখায় জেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সু-দৃষ্টিতে রয়েছেন।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন সাবেক সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর সহধমির্ণী বিথীকা বিনতে হোসাইন ছাড়াও জোটের প্রার্থী হিসাবে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব এর সহধমির্ণী ও দলটির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া বর।
সম্ভাব্য প্রার্থী আশরাফ উদদিন নিজান বলেন, আমি বিশ্বাস করি বিএনপি শতভাগ নিশ্চিত আসনটি জোটের প্রার্থীকে দিয়ে হাতছাড়া করবে না। তিনি আরো বলেন, রামগতি—কমলনগরে ৩১ কিলোমিটার নদীবাঁধ নামমাত্র প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করেছে এতে স্থায়ী নদীভাঙ্গা বন্ধ হবে না। তাছাড়া ভুলুয়া নদী খনন না করলে আমাদের প্রতি বছর পানিবন্ধি হওয়া লাগে, আমি আগামী দিনে সর্বপ্রথম এই দুইটি কাজ করে রামগতি—কমলনগরের মানুষকে পানিবন্ধি থেকে রক্ষা করবো ইনশাআল্লাহ।
জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী তানিয়া রব বলেন, আ স ম আব্দুর রবের স্বপ্ন মেঘনার বাঁধ পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন ও ভুলুয়া নদী খননের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার জন্য গ্যাসের সরবরাহের ব্যবস্থা মাধ্যমে ইটভাটা পরিচালনা করলে আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা পাওয়ার সাথে রামগতি-কমলনগরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন গড়বে।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী বিথীকা বিনতে হোসাইন বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ করে ভুলুয়া নদী অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা ও রামগতি-কমলনগর নদীমাতৃক হলেও এখানে হিমাগার না থাকায় জেলেরা নদীতে মাছ ধরে ন্যাযমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্মমূখী শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কাজ করবো।
বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি জনসংযোগে পিছিয়ে নেই জামায়াত ইসলামীর নেতারাও জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী হিসাবে এ আসনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল এ আর হাফিজ উল্যাহ রামগতি কমলনগরে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে জনসংযোগ, পথসভা করে ভোটাদের আলোচনায় রয়েছেন। এ আর হাফিজ বলেন, রামগতি-কমলনগরের টেকসই বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন করা অস্তিত্বের বিষয়। এছাড়াও এ রামগতি কমলনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যা উন্নতি করনে কাজ করবো। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন কমলনগর উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এখানে পৌরসভা নিয়ে কেউ কাজ করেনি। আমি নির্বাচিত হলে কমলনগর পৌরসভা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবো।
গত ৫আগস্ট পরবর্তি সময় উপজেলা চেয়াম্যান পদ স্থগিত হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রামগতি-কমলনগর নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে প্রচারনায় এগিয়ে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সদ্য বিদায়ী কমলনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ(পীর সাহেব কমলনগর) তিনি বলেন, আমার সর্বপ্রথম কাজ হলে জাতীয় সংসদে দূনীতি মোকাবেলায় সোচ্ছার হওয়া পরবর্তিতে বরাদ্ধের সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন করা। নামমাত্র কাজ করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের দিন শেষ।
তরুনদের মধ্যে আরো আলোচনায় রয়েছেন গনঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও লিয়াজু কমিটির সদস্য রিদওয়ান উল্ল্যাহ খান। তিনি ইতিমধ্যে রামগতি-কমলনগর আনাচে কানাচে নিজ দলে প্রতিক ট্রাক মার্কা নিয়ে প্রচারপ্রচারনা চালাচ্ছে। রিদওয়ান উল্ল্যাহ খান বলেন, আমিই একমাত্র তরুন প্রার্থী যে ২৪এর আন্দোলনে সম্মুখসারিতে থেকে দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছি। রামগতি-কমলনগরের মানুষের ভাগ্যবদলে কাজ করা ইচ্ছে থেকেই ছুটে এসেছি নদীভাঙ্গনের স্বীকার হয়েছি তাই নদীবাধঁ পুর্নাঙ্গ বাস্তবায়নে অগ্রনী ভূমিকা রাখবো ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, রামগতি-কমলনগরে ২টি উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৫৭০ ভোট। তার মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ১৪১ ভোট ও তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার রয়েছে ১টি। ১৯৭১ এর পর প্রথম কয়েকটি সংসদে এই আসনটি ছিল না। ১৯৮৪ সালে রামগতি ও পরবর্তী কমলনগরসহ লক্ষ্মীপুর‑৪ সংসদীয়-২৭৭নং আসনটিতে ২০১৪এর আগ পর্যন্ত ৩বার বিএনপি ও ৩বার তৎকালীন জাসদ জয়লাভ করে।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি কমলনগর) বিএনপির – জামায়াতসহ ৬ প্রার্থী নিজস্ব কৌশলে প্রচারনায় ব্যস্ত
