রামগঞ্জে শিশুর পুরুষাঙ্গ পোড়ানোর ঘটনায় ডাক্তারসহ ৪জনের বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার

আবু তাহের, রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ইসলামীয়া হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় ৩ বছর বয়সী মাহাদি নামের এক শিশুর সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে বিশেষ অঙ্গ (পুরুষাঙ্গ) পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে চিকিৎসকসহ ৪জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন শিশুটির নানা আনোয়ার হোসেন।

সোমবার (৩১ জুলাই) বিকালে রামগঞ্জ ইসলামীয়া হাসপাতাল (প্রাঃ) এর ডিএমএফ চিকিৎসক মোঃ সরোয়ার হোসেন, হসপিটালের পরিচালক সাইফুল্লাহ মানিক, রবিউল আলম রিয়াজ ও ডাক্তারের সহযোগী আবদুল্যাহ আল মাহমুদকে আসামী করা হয়। ১লা আগষ্ট (মঙ্গলবার) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের এ্যাড. মোঃ জাকির হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশু মাহাদির নানা আনোয়ার হোসেন জানান, আমার নাতি মাহাদিরকে সুন্নতে খৎনা করানোর গত ৩১ মে বেলা সাড়ে ১২টায় রামগঞ্জ শিশু পার্ক সংলগ্ন ইসলামীয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দুপুরে উল্লেখিত চিকিৎসক ও তার সহযোগীরা লেজার মেশিনের মাধ্যমে মুসলমানি করানোর জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আমার নাতির আত্মচিৎকার ভেসে আসলে আমরা বিচলিত হয়ে যাই। আমরা দ্রুত বিষয়টি জানার জন্য অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে দেখি তার পুরুষাঙ্গ পুরো পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। ঐ দিনই আমার নাতিকে নিয়ে নোয়াখালীর ট্রাষ্ট ওয়ান হসিপটালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ৩দিন পর ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হসপিটাল/ মিডফোর্ড হসপিটালে অদ্যাবদি চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইসলামিয়া হাসপাতাল কতৃপক্ষকে বার বার মোবাইলে ফোন দিয়ে এবং ঘটনাস্থলে গিয়েও কাউকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। মামলা হওয়ার পর থেকে ডাক্তার ও হাসপাতাল কতৃপক্ষ পলাতক রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন আহম্মেদ কবীর জানান, ডিএমএফ চিকিৎসক এ ধরনের অপারেশন বা সুন্নতে খৎনা করাতে পারেন না। মামলার কপি হাতে পেলে অবশ্যই বিধিমোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১মে দুপুরে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের শাকতলা মিয়া রাজা পাটওয়ারী বাড়ীর নজরুল ইসলাম মামুনের ছেলে মাহাদী (৩) কে সুন্নতে খাৎনা করানোর জন্য স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আবদুর রহিমের পরামর্শে ঘটনার দিন সকাল ১১ টার দিকে রামগঞ্জ ইসলামীয়া হাসপাতালে নিয়ে আসে শিশুটির পরিবার। এসময় সার্জারী করছিলেন ডিএমএফ ডিগ্রীধারী ডা,সরোয়ার হোসেন। কিন্তু সুন্নতে খৎনা করানোর সময় ব্যবহৃত মেশিনের অতিরিক্ত তাপে পুড়ে যায় শিশুটির পুরুষাঙ্গ। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে দ্রুত নোয়াখালীর মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটিকে রেপার করে ইসলামীয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তারের পরামর্শে ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রায় ২ মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুটি।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.