আবু তাহের,রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে দুবাই প্রবাসী শামসুল হক মিজানকে নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকা-ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ম্যানেজ করে পূর্নাঙ্গ কমিটির পদও হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। তবুও থেমে নেই তার বিতর্কিত কর্মকান্ড।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু সেই বিতর্কিত প্রবাসী মিজানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে রামগঞ্জ উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের বাড়িতে যান। এসময় ফুলেল শুভেচ্ছাও জানান তারা। এমন বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে।
রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছে, দুবাই প্রবাসী শামসুল হক মিজান প্রবাসে যাওয়ার আগেও আওয়ামী লীগের কোনো মিটিং-মিছিল করেনি। হঠাৎ করে প্রবাস থেকে টাকা নিয়ে এসে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ম্যানেজ করে দলীয় পদ ভাগিয়ে নিতে চায়। ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে এমন হাইব্রিট নেতাকে দলীয় পদে আসীন না করার দাবি জানান তারা।
লক্ষ্মীপুরের সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতার অভিযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু দলের ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পুর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য তালিকা প্রেরণ করেন। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশের কথা বলে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে মনগড়া কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক ছাড়া অন্য কোনো পদের পরিচয় কাউকে না দিতেও বলা হয়ছে। কিন্তু প্রায় সভা-সমাবেশে একাধিক নেতাকে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে পদ-পরিচয় ব্যবহার করছেন সভাপতি-সম্পাদক।
এদিকে, সম্প্রতি সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আহসানুল কবির রিপন তার বক্তৃতায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ করেন। যা উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমর্থন জানান।
রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.ক.ম রুহুল আমিন বলেন, মিজান রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছে। তারা অতিথি পাখির মত কমিটিতে এসেছে। কিন্তু কমিটি গঠনের পর থেকে কোনো সভা-সমাবেশে আসেনি। তাকে কখনো উপজেলা আওয়ামী লীগে মিটিংয়ে দেখা যায়নি। তার উপর নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ অবস্থানে রয়েছে।
জানতে চাইলে শামসুল হক মিজান ছাত্রলীগ-যুবলীগের রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগে এসেছে বলে দাবি করেন।
