পাক-ভারত যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন উত্তেজনায় পানি ঢেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বিবৃতিতেই ‘আপাতত’ যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে। প্রশ্ন হলো, ভারত পাকিস্তানের এই যুদ্ধে আমেরিকার লাভ-ক্ষতির হিসাবটা কী? কেনই বা হুট করে যুদ্ধ বন্ধে হস্তক্ষেপ করল দেশটি?
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ মানে কেবল গোলাগুলি নয়, যুদ্ধ মানে কূটনীতি, প্রযুক্তি, অর্থনীতি আর অস্ত্রশিল্পের বিশাল দাপট। ভারত পাকিস্তানের এবারের যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে চীনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণই আমেরিকাকে বাধ্য করেছে যুদ্ধ বন্ধে হস্তক্ষেপ করতে। তাছাড়া এর পেছনে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের বিরাট খেলা।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার পর আমেরিকা মোটামুটি নিশ্চিত ছিল, পাকিস্তান শোচনীয়ভাবে ভারতের কাছে হারবে। তাদের গোয়েন্দা তথ্য এমনই ছিল। ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চুপচাপ থাকে আমেরিকা। কিন্তু অবস্থা ভয়াবহ হতে থাকলে যুদ্ধ ঠেকাতে সরব হয় যুক্তরাষ্ট্র।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী একের পর এক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে থাকলে পশ্চিমা সমরবিদদের কপালে ভাঁজ পড়ে। পাকিস্তানের ডিফেন্স ও কাউন্টার অ্যাটাক এতটা তীব্র ও কার্যকর হবে—এমনটা ধারণাতেই ছিল না তাদের। বরং পাকিস্তান নাস্তানাবুদ হলে পশ্চিমা জোট ভারতকে কাছে টেনে পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় রেখে চীনকে দমন করার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু ঘটেছে উল্টো।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো। দেশ দুটি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষাসহ নানা বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিবেচনায় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই ভারতের পাশে দাঁড়াবে, এমনটাই ভাবে অনেকেই। কিন্তু বাস্তবতা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন অনেক জটিল।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সামরিক সরঞ্জামও। এমতাবস্থায় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বড় আকার ধারণ করলে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সামরিক সমর্থন দিতে চাইলে অস্ত্র সরবরাহ ও ইন্টেলিজেন্স শেয়ারে টানাপোড়েনে পড়তে হতে পারে। এতে একদিকে রাশিয়া লাভবান হবে। অন্যদিকে ভারতের পাশে দাঁড়ালে যুক্তরাষ্ট্র মুসলিমবিশ্বে ইমেজ সংকটে পড়বে আরও ভয়াবহভাবে।
ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে ইউক্রেন ও ভারত-পাকিস্তান দুই ফ্রন্টে ভারসাম্য রাখতে পারবে না। এতে রাশিয়া ও চীন কৌশলগতভাবে লাভবান হবে এবং মুসলিমবিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি যুদ্ধ চললে চীনের অস্ত্রশক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে, যা থামাতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কারণেই যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
