মোঃ মোবারক হোসেন, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী মাহমুদা বেগম (২৫) কে কুপিয়ে জখমের পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে স্বামী আক্তার হোসেন (৩৮)। পরে পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙ্গে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আক্তার হোসেন সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের টাওয়াদী দাশপাড়া গ্রামের মলিল মিয়ার ছেলে।
বুধবার (৩১ মে) দুপুরে নরসিংদী পৌরসভার কাওরিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত স্ত্রী মাহমুদাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ও অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক শাহীন চৌধুরী।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত আক্তার হোসেন ২ বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রী সুমি নামে একটি মেয়ের সাথে বিয়ে করে ঘর সংসার করছেন। গত ১ বছর আগে মাহমুদা বেগম নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই মাহমুদাকে নিয়ে নরসিংদী পৌর শহরের কাউরিয়া পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি নিজ বাড়িতে যাওয়া ও আগের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে সর্ম্পক রাখা সহ পারিবারিক বিষয় নিয়ে ২য় স্ত্রী মাহমুদা বেগমের সাথে মনমালিন্য চলছিল। এরই ধারাবাকিতায় বুধবার দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে মৃত আক্তার হোসেন তার স্ত্রীকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপাতে থাকে। এতে মাহমুদার কান সহ মুখের একাংশ আলাদা হয়ে যায়। পরে মাহমুদা বেগম রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অচেতন হয়ে যায়। এমতাবস্তায় স্ত্রী মারা গেছে ভেবে আক্তার ঘরের ফ্যানের সাথে রশি ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করে। আশপাশের লোকজন টের পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত আক্তারের মৃত দেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে।
নিহত আক্তারের ১ম স্ত্রী সুমি বলেন, আমি আমার স্বামীর মা-বাবার সাথে টাউয়াদি দাস পাড়ায় বসবাস করি। ২য় বিয়ের পর থেকেই সে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি মা-বাবার সাথেও যোগাযোগ করত না। আজ দুপুরে শুনতে পাই সে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের খালা সাজেদা বেগম বলেন, আক্তার তার মা বাবার সাথে সম্পর্ক রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু তার ২য় স্ত্রী মাহমুদা তা রাখতে দিতে চাইতো না । এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝড়গা বিভাদ চলত। এরই ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা ঘটে।
নরসিংদী সদর থানার উপ-পরিদর্শক শাহিন চৌধুরি বলেন, ঘটনাস্থল এসে শুনতে পেয়েছি পারিবারিক কলোহের জেরে ২য় স্ত্রী মাহমুদাকে কুপিয়ে আহত করে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্ত্রী মাহমুদাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করার কথা শুনেছি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে ।
