মোঃ মোবারক হোসেন
নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীতে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকাল ৬টায় নরসিংদী শহরের এমপি মার্কেটে নরসিংদী জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় নরসিংদী সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান আাসাদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এতে ১২০ কেজি জেলিযুক্ত বিষাক্ত গলদা চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ পল্লী নিউজকে জানান, আমরা আড়তে মানবদেহের ক্ষতিকর জেলিযুক্ত বিষাক্ত গলদা চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানের টের পেয়ে অসাধু মাছ ব্যবসায়ী মাছ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
যার ফলে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আমরা ১২০ কেজি জেলিযুক্ত বিষাক্ত গলদা চিংড়ি মাছ জব্দ করি। চিংড়ি মাছ পরীক্ষা করে প্রত্যকটি চিংড়িতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর বিষাক্ত জেলি পাওয়া গেছে।
তিনি নিজ হাতে চিংড়ি পরীক্ষা করে উপস্থিত জনসাধারণকে দেখান এবং উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা বাজার থেকে চিংড়ি মাছ কেনার আগে কেউ যদি পরীক্ষা করতে চান তাহলে একটি চিংড়ি মাছ হাতে নিয়ে প্রথমে চিংড়ির মাথা আলাদা করে হাতের তালুতে চাপ দিলেই স্বচ্ছ জেলি দেখতে পাওয়া যাবে।
জেলিটা বেশিরভাগ মাথার অংশেই থাকে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ওজন বৃদ্ধি ও বেশি লাভের আশায় চিংড়ি মাছের মধ্যে জেলি পুশ করে এবং তা মাছের পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ।
তিনি ডাক্তারের সাথে কথা বলে জেনেছেন যে, এই বিষাক্ত জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ মানুষের দেহের কিডনি,লিভার নষ্ট করে এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। তাই জনসাধারণকে আরো সচেতন হয়ে বাজার থেকে চিংড়ি মাছ ক্রয় করার পরামর্শ দেন। যদি এই ব্যবসার সাথে কেউ জড়িত থাকে বা প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
উদ্ধারকৃত জেলিযুক্ত বিষাক্ত চিংড়ি মাছ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই অভিযানে নরসিংদী মডেল থানার এস আই আমিনুল ইসলাম নেতৃত্বে একটি টিম সহযোগিতা করেন। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আজকের অভিযান পরিচালনাকারী নরসিংদী সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।
