তিন বোনের অনশনে ভাঙিয়ে, বাড়ি ফিরিয়ে দিবেন এসপি

শেয়ার

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:

দখল হয়ে যাওয়া বাপের ভিটা ও জমি ফেরতের দাবিতে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় পড়ে অনশন পালন করছিল তিন বোন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চত্বরে অনশনে বসেন তারা।

অনশনে বসা তিন বোনের নাম রুবি আক্তার (২৭) , জেসমিন আক্তার (১৮) ও মোসাঃ রোজিনা (১৬)। তারা জেলার বামনার গোলাঘাটা গ্রামের মৃত আবদুল রশীদের মেয়ে।।

বড় বোন রুবি আক্তার জানান, ২০০৩ সালে বাবা আবদুর রশীদ মারা যান। তখন রুবির বয়স মাত্র ৭ বছর। বাবা মারা যাওয়ার একবছর পর ২০০৪ সালে প্রতিবেশী ও দুঃসম্পর্কের খালা হাসিনা বেগমের সাথে চট্টগ্রাম চলে যান রুবি।

ওই খালার তত্বাবধানে ৮ম শ্রেণিতেপড়াশোনা অবস্থায় ২০১৩ সালে পোষাক কারখানায় শ্রমিক হিশেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পোষাক কারখানায় কাজ করে বাড়িতে থাকা মা ও ছোট দুই বোনের ভরণ-পোষণ চালান। ২০১৪ সালের শুরুতে ছোট ভাই আল আমিনকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন এবং কাভার্ডভ্যানের সহকারি হিশেবে কাজ দেন।

কিন্ত ওইবছরের শেষের দিকে দূর্ঘটনায় ভাই আল-আমিনের মৃত্য হয়। এর তিনবছর পর ২০১৭ রুবির মা খাদিজা বেগমও মারা যান। বাড়িতে থাকা দুই বোন বোনেরা নিরপত্তাজনিত কারণে এলাকারই এক আত্মীয়র বাড়িতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যান। মেজ বোন জেসমিন এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী, রুজিনা দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।

২০১৯ সালে এলাকায় ফিরে বাড়িতে আসেন রুবি।

বাড়িতে গিয়ে দেখেন তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী প্রতিবেশী আবদুল মান্নান, আশরাফ আলী ও শাহজাহান, সামসুজ্জামানগং দখলে নিয়েছে।

রুবি বলেন, ২০১৯ সালে আমি বাড়িতে ফিরে জমি বুঝে পেতে চাইলে তারা বলে আমাদের জমি নাকি নিলামে তারা কিনে নিয়েছেন। পরে উপজেলা ভুমি অফিসে গিয়ে জানতে পারি জমির কোন নিলাম হয়নি।

 বাবার জমি থাকতেও এখন নিজভূমে পরবাসী। আমরা অসহায় তিন বোন বাবার জমিটুকু ফেরত চাই।আমাদের দাবি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ না পাওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চলবে।

জমি ও বসতি দখল প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে আবদুল মান্নান বলেন, ওই জমি আমাদের। কাগজপত্র আছে আমাদের কাছে। ওদের কোনো জমি নাই।

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক দুপুরের খাবার কিনে নিয়ে এসে তিনবোনের অনশণ ভাঙান। এসময় তিনি তিনবোনকে আশ্বস্ত করেন, জমি যদি তাদের হয় তবে ফেরত এনে দিতে যা যা সহযোগীতা দরকার করবেন। পুলিশ সুপারের আশ্বাসে খাবার গ্রহন করে খেয়ে অনশন ভাঙেন তিনবোন।

বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, আমি বিকেলেই সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেব।

এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.