বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, অতি দ্রুত তারা নির্বাচনের ব্যবস্থা করছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য তারা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, অতি দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে অন্তর্বর্তী সরকার। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। জনগণও প্রত্যাশা করছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সহজ হয়ে যাবে।’
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল যমুনায় প্রবেশ করে বৈঠকে বসেন। বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি প্রায় ঘণ্টারও বেশি ধরে চলে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে বিএনপি উদ্বেগ জানিয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বৃহত্তর দল হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে তার দায় সরকার এড়াতে পারে না। কারণ সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সামনেই একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা স্থিতিশীলতা ব্যাপকভাবে বিপন্ন করেছে এবং এসব প্রক্রিয়ার কারণে ফ্যাসিবাদকে আবার কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য তাগাদা দিয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম যে সংস্কার সেগুলো করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছি। প্রশাসনে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর, যারা বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রশাসনের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি। সেই সঙ্গে যারা দেশের অর্থনীতি লুণ্ঠন করেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা ও শাস্তির দাবি জানিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের মামলাগুলো আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, এগুলো প্রত্যাহারের জন্য দাবি করেছি। তারা নীতিগতভাবে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। আমরা বলেছি, সরকারের অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা হচ্ছে, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। এ ব্যাপারে সরকার আমাদের বলেছে, তারা এ বিষয়ে কাজ করছে।’
অপারেশন ডেভিল হান্ট সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সরকারপ্রধানকে বলেছি এ ধরনের অভিযান আগে হয়েছিল। সেই ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। কোনোভাবেই নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন আক্রান্তের শিকার না হয়। এ বিষয়ে যেন কোনো সমস্যা তৈরি না হয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আমরা কোনোভাবেই একমত হব না। আমরা খুব পরিষ্কার করে আগেও বলেছি, এখনো বলছি যে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন হবে না।’
কবে নাগাদ রোড়ম্যাপ ঘোষণা দেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তারা (সরকার) দেবে। ১৫ তারিখের মধ্যে তারা কিছু একটা বলতে যাবেন।’
