রুবেল চক্রবর্তী।
ভোলার তজুমদ্দিনে ১৫ টি পূজা মণ্ডপে মহা ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গা পূজা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত এখন উপজেলা পূজা মন্ডপগুলো। দেবীপক্ষের এই শুভ সূচনায় চোখেমুখে এখন রয়েছে উৎসবের ঝিলিক।
এ বছর তজুমদ্দিন উপজেলায় ১২টি স্থায়ী ও ৩টি অস্থায়ী মিলে মোট ১৫টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে চলবে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও বোধনের আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে মর্ত্যে।
এবছর ১৬ই অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয় দশমীর মধ্য দিয়ে এবছর পূজার সমাপ্তি হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমা শিল্পিদের শেষ মুহূর্তের রঙ-তুলির কাজ শেষে এখন আলোকসজ্জায় সেজেছে প্রতিটি মণ্ডপগুলো। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নতুন জামা-কাপড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করবেন দেবীর মহাষষ্ঠীর পুজো দেখতে।বিশেষ করে উপজেলা কেন্দ্রীয় কালী মন্দির, শশীগঞ্জ বাজার সার্বজনীন কালী মন্দির,উপজেলা সদর দূর্গা মন্দির,গৌড় গোবিন্দ মহাপ্রভুর আশ্রম সহ সকল মণ্ডপগুলোতে থাকবে ভক্তদের পদচারণা।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি অরবিন্দু দে টিটু জানায়, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তথা জাতীয় সংসদের স্পিকার ও এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর অবঃ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এর পক্ষ থেকে রয়েছে সর্বোচ্চ সহযোগিতা । আশা করছি বিগত বছরের থেকেও এবার শান্তিপুণ্য ও উৎসব মুখোর পরিবেশে বিজয়াদশমীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গা পূজা সমাপ্ত হবে।
এদিকে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তজুমদ্দিন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সাথে সিসি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক টিম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে।
পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, মা আসছেন, সাথে নিয়ে আসছেন শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা। তজুমদ্দিনে হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে এই উৎসবকে সার্বজনীন করে তুলেছি।পূজা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রয়েছে সর্বোচ্চ সহযোগিতা। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ওমর আসাদ রিন্টু সহ সকল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে রয়েছে শান্তিপূর্ণ পূজা পরিচালনায় কঠোর নজরদারি। যাতে কোন দুষ্কৃতিকারী কোনরকম বিশৃঙ্খলা তৈরি না করতে পারে। আগামী বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলবে এই উৎসবের আমেজ।
জানতে চাইলে উপজেলা সদর দূর্গা মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহদেব দাস শুভ বলেন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে মহাষষ্ঠীর শুভ সূচনার মধ্য দিয়ে আমরা বরণ করে নিতে চলেছি বাঙালির প্রাণের উৎসব, শারদীয় দুর্গাপূজা। আশা রাখছি, বিগত বছরের তুলনায় এ বছরও সকলের সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পূজার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করতে পারব। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে চারপাশ। মা দুর্গার আগমনে সবার জীবনে ছড়িয়ে পড়ুক আনন্দ, শান্তি ও শুভকামনা—এই প্রত্যাশাই রইল।
