এম এম টিপু সুলতান, খুলনা জেলা প্রতিনিধি।
খুলনার পাইকগাছায় বদ্ধ জলমহল এক মাসের জন্য ইজারা নেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে রেকর্ডীয় জমিতে থাকা চিংড়ি ঘেরে ভাঙচুর ও মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিক শরিফা খাতুন। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে তার ৭০ বছর বয়সী বাবা আব্দুল খালেক সানা আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কমলাপুর মৌজায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শরিফা খাতুনের থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মৌখালী গ্রামের মৃত আজিজ মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমান চুন্নু মোল্যা গত ১৯ এপ্রিল ভূমি অফিসের প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে মৌখালী বদ্ধ জলমহল ৩৪ হাজার টাকায় এক মাসের জন্য খাস আদায়ের ইজারা নেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইজারার নির্ধারিত সীমানা ও মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা খাস আদায় অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে হাফিজুর রহমান রেকর্ডভুক্ত ওই মৎস্য ঘেরেও খাস জমি রয়েছে দাবি করে জমির মালিকদের কাছে টাকা দাবি করেন।
শরিফা খাতুনের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাফিজুর রহমানের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের চিংড়ি ঘেরে প্রবেশ করেন। এ সময় নেটপাটা ও বসতঘরে ভাঙচুর চালানো এবং ঘের থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তার বাবা আব্দুল খালেক সানা বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শরিফা খাতুন দাবি করেন, ভাঙচুর ও মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাফিজুর রহমান। তার দাবি, শরিফা খাতুনের নেতৃত্বেই তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তারাও পাইকগাছা থানায় এজাহার দাখিল করেছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আওয়াল কবির বলেন, উভয় পক্ষের দুটি এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, জলমহল ইজারা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন মৎস্য ঘেরের সীমানা নিয়ে বিরোধের দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
