নেই প্রশাসনের নজরদারি, কমলনগরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার

শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক::

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ২০টি ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ৪টি । এদের গত ৩/৫ বছর থেকে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলেও দিব্বি তারা অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।  এ সব বিষয়ে প্রশাসনের সঠিক নজরদারি করার কথা থাকলেও তারা ঘুমে বিভোর।

প্রশাসনের কর্তা  ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এ সব অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন  বলে ধারণা  করছেন অনেকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার অফিস সূত্রে জানা যায়,  ২০টি ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে হাজিরহাটে মডার্ন মেডিটেক সেন্টার গত ৪ বছরের থেকে কোন কাগজপত্র নেই। এছাড়াও ফজুমিয়ারহাটে  রয়েল ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই চলছে । মাঝে মধ্যে এ সব ল্যাবগুলোতে নামে মাত্র অভিযান দিয়ে জরিমান করে ছেড়ে দেওয়ায় এতে টনক নড়ে না তাদের।

ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নীতিমালা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য টেকনিশিয়ান ও এমবিবিএস ডাক্তার বাধ্যতামূলক থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ল্যাবে টেকনিশিয়ান ও  ডাক্তার নেই । এ সব প্রতিষ্ঠানের আয়াকে দিয়ে টেকনিশিয়ানের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে এবং গ্রামের অশিক্ষিত ভুয়া ডাক্তার বসিয়ে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  ডায়াগনস্টিক সেন্টার দীর্ঘ দিন  অনুমোদন ছাড়া সরকারের  কর ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করে। পরবর্তীতে একই ব্যক্তিরা ওই ল্যাব বন্ধ করে দিয়ে ভিন্ননামে  সেন্টার দিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান চালু করে।  এসব প্রতিষ্ঠানের কোন অনুমোদন বা লাইসেন্স নেই। ৩/৪ বছর সরকারে কর ফাঁকি দিয়ে নতুন নামে প্রতিষ্ঠান চালু করে।

এদিকে প্রাইম ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এমডি ইসমাইল হোসেন বিপ্লব বলেন, আমাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন।  আমরা ইনভেস্টিগেশনের জন্য প্রতিষ্ঠান এখনও খোলা রাখছি।

এদিকে মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এমডি  মো.আকতার হোসেন বলেন, আমরা ২০২১-২২ অর্থ বছরের আবেদন করেছি।  ওই সনের লাইসেন্স পেলে পরবর্তী বছরগুলোর আবেদন করবো।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সব্যসাচী নাথ বলেন, অবৈধ ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার  বন্ধের বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে এ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাহাত উজ জামান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অফিসের একটি  তালিকা আমরা পেয়েছি। তারা অবৈধ ল্যাবগুলো বন্ধের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন বলেন, খুব শীঘ্রই অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.