রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর হাইপোগ্লাইসেমিয়া

শেয়ার

চলছে পবিত্র রমজান। এ মাসে ধর্মপ্রাণ মানুষদের রোজা পালনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। আর রোগী যদি হন হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত তা হলে তো কথাই নেই। ডায়াবেটিসে রক্তে সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়াকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এ অবস্থায় রোগীর নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, এমনকি হতে পারে মৃত্যুও। টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়া গ্রুপের ওষুধ সেবন করা রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি খুবই বেশি। এই ঝুঁকি এড়াতে দরকার পর্যাপ্ত সতর্কতা ও চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় পরামর্শ।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ

সাধারণত রক্তে সুগার স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীরা এসব লক্ষণ দেখা দিলেই সতর্ক হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন

*অবসাদ বা অতিরিক্ত মাথাব্যথা

*মাথা ঘুরানো বা ঝিমঝিম করা

*চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন

*পেটব্যথা

*অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করা

*বুক ধড়ফড় করা

*অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা

*জ্ঞান হারানো

ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের সুগার মাপা

সাধারণত ডায়াবেটিক রোগীরা গ্লুকোমিটার মেশিনের সঙ্গে পরিচিত। গবেষণা অনুয়ায়ী ডায়াবেটিস রোগীদের ন্যূনতম ছয় বেলা নিজেদের গ্লুকোজ বা সুগার লেভেল পরিমাপ করা উচিত।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে যেহেতু স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে তাই এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। সাধারণত সেহরির সময় সকালে, দুপুরে, বিকালে, ইফতারের আগে এবং ইফতারের দুই ঘণ্টা পরে সুগার মাপা উচিত। এ ছাড়া কোনো সময় যদি রোগীর হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ দেখা যায় বা তার মনে হয় যে সুগার কমে গেছে, তা হলে অব্যশই গ্লুকোমিটারের সাহায্যে সুগার মেপে নিতে হবে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে করণীয়

টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগী যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন তাদের অব্যশই সেহরি বাদ দেওয়া যাবে না। সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র রোজা ভেঙে এমন কিছু খেতে হবে যা দ্রুততম সময়ের ভেতরে রক্তে চিনি বা শর্করার পরিমাণ বাড়াবে। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত হলো চিনির শরবত, কমলার জুস, জেলি বা ক্যান্ডিজাতীয় খাবার। যদি রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, তা হলে দুই গালের পাশে বা জিভের নিচে চিনি জাতীয় কিছু দিতে হবে। এ ছাড়া যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাদের অব্যশই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ইনসুলিনের ডোজ কমাতে হবে এবং সময় নির্ধারণ করে সেটির মাপ ঠিক করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, রোজার এক মাস ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এবং ইনসুলিনের পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ করা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুবই জরুরি।

সাধারণত সেসব রোগীরা হাইপোগ্লাইসেমিয়াপ্রবণ তাদের রোজা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। কারণ এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি খুবই গুরুতর। তবে যারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখতে চান তারা অবশ্যই খাদ্য তালিকা, ওষুধ ও ইনসুলিনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।

ডা. প্রমা অর্চি, সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.