নিজস্ব প্রতিবেদক :
ছোট্ট শিশু ইছমা আক্তার। বয়স মাত্র এক বছর দুই মাস। পুর্ব নন্দনপুর আব্বাচ আলী বেপারি বাড়ির মো. আলমগীর হোসেনের সন্তান। পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের কোরবান আলি বেপারি বাড়িতে (নানার বাড়ি) মায়ের সাথে বেড়াতে আসেন শিশুটি। কিন্তু গতকাল তারই সামনে মামার অপরাধে তার মাকে মারধর করেন মামার শুশুর পাষাণ ফারুক জাপার। এতে আহত হয় তার মা মুক্তা আক্তার।
জানা যায়, পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের কোরবান আলী বেপারি বাড়ির আনোয়ারের ছেলের সাথে পৌর শহরের বেড়ীর মাথা নামক স্থানের মৌলবি বাড়ির ফারুক জাপরের মেয়ে জুথি আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। এ ঘটনায় উভয় পরিবারের কেউ তাদের বিয়েতে মত না থাকায় তারা গত ২৮ জানুয়ারী কোট এফিডেভিট এর মাধ্যমে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন পর ছেলের পরিবার মানসন্মানের কথা ভেবে তাদের গ্রহন করে নেয়। কিন্তু বিয়ে মেনে নিতে পারেনি জুথির পরিবার। তাই গত কাল সন্ধ্যায় জুথির বাবা পুলিশ নিয়ে ছেলের বাড়ি থেকে ছেলে ও মেয়েকে আটক করায়।
হামলার বিষয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তা আক্তার বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় পর জুথির বাবা কয়েকজন লোক নিয়ে এসে আমার ভাইকে মারধর করে তুলে নিয়ে যাচ্চে। তা দেখে আমি ও জুথি (ভাইয়ের বউ) চিৎকার করতে থাকি। এতে জুথির বাবা আমাকে কাঠ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। চিৎকার না করার জন্য বলে।
ছোট্ট শিশুটির নানী শাহিনুর বেগম বলেন, গত ২৮ জানুয়ারী কোর্ট এফিডেভিট এর মাধ্যমে শাহিন ও জুথি উভয় সম্মতিক্রমে বিয়ে করে। প্রথমে বিয়ে মেনে নেয়নি। পরে আত্বীয় স্বজনদের কথায় ও মানসন্মানের কথা চিন্তা করে বিয়ে মেনে নিয়েছি। কিন্তু তা জুথির পরিবার মেনে নেয়নি। যার ফলে ছেলে মেয়ে দুইজনই আমাদের বাড়িতে থাকে। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় জুথির বাবা পুলিশ নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার ছেলে শাহিন ও ছেলের বউ জুথিকে তুলে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে আমাকে ও আমার মেয়ে মুক্তাকে মারধর করে জুথির বাবা।
আটকের বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে আটক করে জোর পূর্বক বিয়ের একটি অভিযোগ থানায় ফারুক জাপর নামের একজন করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ে ও ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
