গাজীপুর প্রতিনিধি:
নৌকার ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর। সদ্য সমাপ্ত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী শিক্ষিত, মার্জিত, রুচিশীল, ব্যক্তিত্ব এড.আজমত উল্লাহ খানকে ১৬১৯৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জাহেদা খাতুন বিজয়ী হয় । তিনি সেলিনা হায়াত আইভীর পর বাংলাদেশে দ্বিতীয় নারী মেয়র।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গাজীপুরের মাটিতে নৌকার ভরাডুবি হওয়ায় আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে। চলছে নৌকা পরাজয়ের চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবির যথেষ্ট কারণ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ নিম্ন তুলে ধরা হলোঃ
১,জাহাঙ্গীরের জনপ্রিয়তাঃ
গাজীপুর জেলায় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা রয়েছে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের। ছাত্র জীবন থেকেই গাজীপুরে আলোড়ন সৃষ্টি করে জাহাঙ্গীর। দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে জাহাঙ্গীরের একটা আলাদা গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে।
মেয়র থাকাকালীন সময়ে তিনি গাজীপুরে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেন। মানুষের জায়গা জমি নিয়ে রাস্তা তৈরি করলে কিছু মানুষের অসন্তুষ্টি থাকলেও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া, নির্বাচন কালীন সময়ে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার আদেশ, দুর্নীতির দায়ে দুদকের তলব, প্রচারণার সময় হামলা ও ভাংচুরের কারণে গাজীপুরের সাধারণ ভোটারদের সহানুভূতি পায় সে । যার কারণে দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের ভোটে জাহাঙ্গীরের মা জায়দা খাতুন বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।
২, বিএনপি জামাতের ভোটঃ
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিএনপি জামাতের একটা বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। বিএনপি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ধানের শীষ প্রতীকে কোন প্রার্থী ছিল না।
বিএনপি জামাতের অনুসারীদের মূল লক্ষ্য ছিল নৌকা পরাজিত করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে প্রমাণ করা সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোটায়।
জাহেদা খাতুন মেয়র নির্বাচিত হোক সেটা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না, উদ্দেশ্য ছিল নৌকা মার্কাকে পরাজিত করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং জনপ্রিয়তা কমে গেছে তা প্রমাণ করা। গাজীপুরে বিএনপির মিশন সফল হয়েছে। বিএনপির জামাতের ভোট পাওয়ায় জায়েদা খাতুনের বিজয় আরো সহজ হয়ে যায়।
৩,নৌকার প্রচারণায় আন্তরিকতার অভাবঃ
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় আওয়ামিলীগের নেতা কর্মীদের সমন্বয়ে প্রায় পাঁচশতাধিক টিম ৫৭টি ওয়ার্ডে নৌকার প্রচারণায় কাজ করলেও তাদের মধ্যে আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব ছিল।সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের মন জয় করতে পারে নাই।
তারা সবাই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে না গিয়ে রাস্তায় নৌকার মিছিল করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে। প্রচার প্রচারণা ক্ষেত্রে আন্তরিকতার যতেষ্ট অভাব ছিল ।
৬ জাহাঙ্গীরের মায়ের প্রতি সহানুভূতিশীলঃ
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অর্ধেক নারী ভোটার। মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের পুত্র সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের উপর দলীয় বিধি নিষেধ, আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার, বিভিন্ন রকম হয়রানি কারনে সাধারণ নারী ভোটারদের সহানুভূতি পায় জায়েদা। এসব কারনেই জায়েদা খাতুনের বিজয় ত্বরান্বিত হয় এবং নৌকার ভরাডুবি হয়।
উপরোলেখিত কারনেই দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ নামে পরিচিত নৌকার ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত গাজীপুরে নৌকার ভরাডুবি হয়।
