ফরিদ আহমেদ আবির, রাজশাহী,
একই বাড়িতে, একই হাড়িতে খাওয়া ও বসবাস। আবার একই সংগঠনের সতীর্থ সহযোদ্ধাও তারা। কিন্তু পদ বা ক্ষমতার আশায় আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে চাচার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন ভাতিজা। কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ।
ঘটনাটি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। এখানে মোট প্রার্থী তিনজন। এরা হলেন- বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নিযাম উল আযীম, মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. গোলাম ফারুক ও মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হানুর রহমান (রয়েল)।
জানা গেছে, রায়হানুর রহমান হলেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীর ছোট ছেলে। রমজান আলীর সৎ মায়ের ছেলে হলেন গোলাম ফারুক। রাজশাহী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে রমজান আলীর আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার ফারুক। অপরদিকে রায়হানুর রহমান পেশা হিসেবে দিয়েছেন হাউজ টিউটর।
রাজশাহী মহানগর যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. দুরুল হুদা। কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রয়েল ও ফারুকের প্রতিবেশী তিনি। নির্বাচনে চাচার বিপক্ষে ভাতিজা দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভ কার নাই, সবারই আছে। স্বার্থের কারণে ভাই-ভাইকে চেনে না। সেখানে চাচা-ভাতিজার তো আরও দূরের সম্পর্ক। তাও আবার সৎ চাচা। তাই তাদের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা স্বাভাবিক বিষয়।
কারণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, রাজশাহী মহানগর যুবলীগের বর্তমান কমিটি নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। সবাই এই কমিটিকে পারিবারিক কমিটি বলে আখ্যা দেয়। তাছাড়া দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় তাদের ওপর নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত। অনেকেই বলাবলি করে আগামীর কমিটিতে তারা কেউ-ই স্থান পাবে না। তাই হয়তো কাউন্সিলর পদে নিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে মশগুল।
তবে জানতে চাইলে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রয়েল বলেন, ‘আসলে এটি আমাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত।’ অপরদিকে, গোলাম ফারুককে তার মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন, এখন একটু ব্যস্ত আছি। খুব তাড়ার মধ্যে আছি। পরে কথা বলবো।’
বর্তমান ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযীম বিগত চারবারের কাউন্সিলর এবং ২০১৩ সালের দিকে অন্তবর্তীকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনও করেছেন তিনি। গেলো বারে ২১নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। এর মধ্যে নিযাম উল আযীম পেয়েছিলন প্রায় ৩৬০০ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আসাদুজ্জামান রেবু পেয়েছিলেন প্রায় ১২০০ ভোট। অপরদিকে সাবেক কাউন্সিলর শহীদ আহম্মেদ বাদল পেয়েছিলেন অবশিষ্ট প্রায় ৮০০ ভোট। বর্তমানে ২১নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ হাজার ৫৫১জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৮০ ও মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৪৭১ জন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিপুল জনপ্রিয়তার কারনে নিযাম উল আযীম ২১নং ওয়ার্ডে অপ্রতিরোধ্য কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২১নং ওয়ার্ডের সাবেক বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর শহীদ আহম্মেদ বাদলকে পরাজিত করে বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয় কাউন্সিলর নিযাম। একারণে গেলোবারে যারা তার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন তারা আর এবার নির্বাচন করছেন না। এতোকিছুর পরও তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন একই পরিবারের দুই সদস্য চাচা ও ভাতিজা।
জানতে চাইলে ২১নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর নিযাম উল আযীম বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব করার স্বাধীনতা সবারই আছে। তাছাড়া কাউন্সিলর পদে কে দাড়াঁবে আর দাঁড়াবে না তা নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তিত নই। আমি জনগনের জন্য কাজ করছি এবং করবো এটাই আমার মূল লক্ষ্য।’
প্রসঙ্গত, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২৪ জন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৪৬ জন। ১ জুন মনোনয়ন প্রত্যাহার করার শেষ দিন। প্রতীক বরাদ্দ হবে আগামী ২ জুন। এরপর প্রার্থীরা প্রচারণায় নামবে। আগামী ২১ জুন ৩০টি ওয়ার্ডে সম্ভব্য ১৫২টি কেন্দ্রের ১ হাজার ১৭৩টি বুথে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
