লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়ায় রুবেল (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৭ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম তিনি এ রায় দেন।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত আসামিরা সাক্ষ্য প্রমাণে দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাসের রায় দেন। রায়ের সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ভিকটিম রুবেল সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে। পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে খুন করা হয়।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ছাত্রলীগ নেতা রুবেলকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রুবেলের সৎ মা নয়ন বেগম (৫৭) বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন দত্তপাড়া এলাকার এক সময়ের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দত্তপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন শামীম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মাসুম বিল্লাহ ওরফে লাদেন মাসুম। ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর দুর্বৃত্তের হাতে খুন হয় মাসুম বিল্লাহ। এছাড়া ওই মামলায় আরও দুই আসামির মৃত্যু হয়।
সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে রুবেল সদর উপজেলার মান্দারী বাজারের তার বোনের বাড়িতে ছিলেন। রাতে মোবাইল ফোনে তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরদিন সকালে দত্তপাড়া ইউনিয়নের বরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর বাড়ির পুকুর পাড়ে তার তার হাত-পা বাঁধা ও গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি নিহত রুবেলের সৎ মা নয়ন বেগম বাদী হয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান মাসুম বিল্লাহ ওরফে লাদেন মাসুমহ (৩২) ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের নামে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- লাদেন বাহিনীর সদস্য জসিম উদ্দিন (৩০), রিয়াজ হোসেন (৩২), কামরুন নাহার (৪২), ফরহাদ হোসেন (৩৫), আমির হোসেন সুমন (৩৫), মো. বাহার (৩৭), মো. রাব্বি (৩২), মো. কামাল হোসেন (৪২), মুরাদ হোসেন (৩২), সাদ্দাম হোসেন (২৯) ও ইউসুফ (১৮)৷
আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও মামলা পর্যালোচনা করে দীর্ঘ ৭ বছর পর মামলার আসামিদের খালাস দেন।
