জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবির তরুণ প্রজন্মের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে দিন দিন। সৃজনশীল কাজ বাদ দিয়ে বেশী ভাগ তরুণ এখন জড়িয়ে পড়ছে নানা প্রকার অপসংস্কৃতি এবং অপরাধে। সীমান্ত এলাকা হবার কারণে এ সমস্যা দিন দিন আরও মারাত্বক আকার ধারণ করতে পারে মনে করছেন অনেক অভিভাবকবৃন্দ।
মোবাইলের পজেটিভ ব্যবহারের পরিবর্তে তারা এখন মোবাইল ফোন নিয়ে নানা রকম খেলায় ব্যস্ত থাকে সবসময়। পিতা-মাতার কথাগুলো তাদের কাছে তেমন কোন দাম পায় না এখন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ভাবে নিজের ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে নানা প্রকার মাদক এবং খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ দিয়ে। এ নিয়ে স্থানীয় অবিভাবকেরা চিন্তায় পরেছে।
প্রতিটি গ্রামে আগে সে ক্লাবগুলো ছিল নানা প্রকারের খেলাধুলার জন্য আজ তা হারিয়ে গেছে কালের বির্বতনে। ক্লাবগুলোর সময় এখনকার প্রজন্মের তরুণেরা ব্যায় করছে মোবাইল, অসৎ সঙ্গ, ল্যাপটপ এবং নানা ধরণের মাদক সেবনের মধ্যে। এখন আর আতœীয়-স্বজনের বাড়িতেও যেতে চায়না বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা, যার ফলে তাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে দিন দিন ।
পাঁচবিবি উপজেলায় যে কয়েকটি লাইব্রেরী রয়েছে আজ তা প্রায় পাঠকশুণ্য বলা চলে। দিন দিন বিভিন্ন গ্রামের জনকল্যাণমূলক ক্লাবগুলো বিলিন হয়ে যাচ্ছে, সে সাথে বিলুপ্ত হচ্ছে সামাজিক নানা রকমের অনুষ্ঠান।
শিশুদের শারীরিক সকল প্রকার খেলাধুলা এখন জায়গা করে নিচ্ছে মোবাইলের নানা রকম খেলাধুলা। মোবাইলে এখন তারা লুডু, ক্যারাম, ক্রিকেট,ফুটবল, দাবাসহ নানা রকম খেলাধুলা করছে। সচেতন অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। সৃজনশীল কাজগুলো দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে এ সোসাল মিডিয়ার জন্য।
পাঁচবিবি সদরের পৌর এলাকার পাঁচমাথা পৌর পার্কে এখন দর্শনার্থীদের চেয়ে বখাটে ছেলেদের আড্ডা হচ্ছে বেশী। পার্কের পশ্চিম দিকের লেকের সাইডে তরুণেরা বিভিন্ন প্রকার মাদক এবং ধূমপানের আস্তানা হিসাবে গড়ে তুলেছে। সেখানে গেলেই লক্ষ্য করা যায় শত শত সিগারেটের পেকেট, ফেন্সিডিল মুখসহ নানা রকম নেশাজাতীয় দ্রব্য সামগ্রী। লেকের পরিবেশ এবং পার্কেও সুনাম নষ্ট করছে প্রতিনিয়ত।
পৌরসভার কিছু সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এখানে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় নিয়মিত ধুমপান করে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধীরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যৎতে পাঁচবিবির তরুণ প্রজন্ম অনেক খারাপ অবস্থানে পৌঁছাবে। পাঁচবিবি পৌরসভার ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু সুনামধন্য ক্লাব এবং সংগঠন হচ্ছে-ঈগল সুপার সাহিত্য সংগঠন, ঝংকার ক্লাব, চেতনা ক্লাব, সুরসপ্তক, আদর্শ ক্রীড়া চক্র ও সাহিত্য কেন্দ্রসহ আরো অনেক সেচ্ছাসেবী সংগঠন যোগ্য উত্তরসুরীর অভাবে আজ বিলুপ্ত। যার ফলে বর্তমান তরুণেরা সৃজনশীল কোন কিছুর সাথে যুক্ত হতে পারছে না। সচেতন অভিভাবক এবং জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে অনেক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতি প্রয়োজন হয়ে পরেছে। শুধুমাত্র পাঁচবিবির অবকাঠামোগত পরিবর্তন করে বর্তমান প্রজন্মকে গড়ে তোলা সম্ভব না, প্রয়োজন সৃজনশীল কিছু সংগঠনের ।
পাঁচবিবি প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রতি বছর সাংবাদিক জামশেদ আলম স্মৃতি ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগীতা আজ বন্ধ হয়ে গেছে । সচেতন সমাজ চায় পাঁচবিবির প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ফিরে আসুক সোনালী অতীত, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল সকল কাজ হয়ে উঠুক প্রানবন্ত, বর্তমান প্রজন্ম গড়ে উঠুক সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ সমাজ বিনির্মাণে।
নিচে তুলে ধরা হচ্ছে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ভালো থাকার কয়েকটি উপায় সমূহ-
১। নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ পালন করা। ২। সঠিক বন্ধু নির্বাচন করা। ৩। পিতা-মাতা ও শিক্ষকের সু-পরামর্শগুলো পালন করা। ৪। সোস্যাল মিডিয়া অপ্রয়োজনে ব্যবহার না করা। ৫। আতœীয়-স্বজন অথবা বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করা। ৬। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করা। ৭। নিয়মিত ব্যায়াম করা। ৮। ছোটদেরকে ¯েœহ এবং বড়দেরকে শ্রদ্ধা করা। ৯। বিবিধ।
লেখক- ফিরোজ হোসেন ফাইন পাঁচবিবি,জয়পুরহাট।
