খুলনা প্রতিনিধি:
কয়লা সংকটে ১৮ দিন ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ আছে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। গত চার মাসে তিন দফায় ৪৮ দিন বন্ধ থেকেছে কেন্দ্রটির উৎপাদন। ফলে এই তীব্র গরমের মধ্যেও খুলনা অঞ্চলে বেড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৫৫ হাজার লোডশেডিং। তবে বিদ্যুৎ কাজের বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। বিষয়টি কাজে। নিশ্চিত করে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে এসব কয়লা আনলোডিং শুরু হবে। এর পর যত দ্রুত সম্ভব উৎপাদন শুরু হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে।
আনোয়ারুল আজিম জানান, উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিদিন ৫ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন। সে হিসাবে ৫৫ হাজার টন কয়লা দিয়ে ১১ দিন উৎপাদন চালু রাখা যাবে। এক সপ্তাহ পর আরও ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর পর ডলারপ্রাপ্তি সাপেক্ষে আরও কয়লা আমদানি করা হবে। এদিকে কয়লার অভাবে বার বার উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে আগামী জুনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়া এ ছাড়া উৎপাদন বন্ধ থাকলে চাই ওরা নিয়ে জাহাজ গত পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর উৎপাদনে যাওয়ার ২০- ২২ দিন পরই রামপাল বিদ্যুকেন্দ্রে কয়লার স্বাভাবিক মজুত শেষ হয়ে যায়। ডলার সংকটে ঋণপত্র খুলতে না পারায় রিজার্ভ কয়লা দিয়ে আরও ৫ দিন উৎপাদন চালু রাখা হয়। পরে কয়লার মজুত শেষ হয়ে গেলে ৪ জানুয়ারি সকালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর মাত্র ২৭ দিনের মাথায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার প্রথম ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক মাসের মাথায় আবার উৎপাদনে ফেরে বিদ্যুৎকেন্দ্র। কিন্তু ১৫ এপ্রিল রাত থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবার বন্ধ হয় উৎপাদন। তিন দিন বন্ধ থাকার পর ১৮ এপ্রিল সচল হলেও কয়লা সংকটে ২৩ এপ্রিল রাত থেকে ফের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
