দেলোয়ার হোসেন, রামগতিঃ
রামগতিতে রুট পারমিট ও ফিটনেস বিহীন গাড়িতে রাস্তায় যেন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির সময়ে জমি চাষাবাদের জন্য অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ট্রলি, ট্রাক্টর,এবং ভুটভুটির যথেচ্ছা অপব্যবহার হচ্ছে। কৃষি কাজে সহায়ক যন্ত্রপাতিগুলোকে যানবাহনে রূপান্তরিত করে কোন প্রকার নিয়ম নীতি না মেনেই গ্রামীণ সড়কগুলোতে অবাধে চলছে ওই সব যানবাহন। রামগতি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দেখা মিলেছে খড়,ইট,বালু ও মাটি বহনকারী ট্রলি, ট্রাক্টর ভুটভুটি’র। দিনদিন বেড়েই চলেছে ঐ সব অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্য।
অপরদিকে বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা । সড়কগুলোতে অকালে ঝরছে তাজা প্রাণ। অনেককেই বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে এসব যান বিদেশ থেকে আমদানি করার অনুমতি প্রদান করে থাকে সরকার। কৃষি কাজের জন্য এসব পাওয়ারট্রিলার ট্রাক্টর মেশিন ক্রয় করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বডি লাগিয়ে ব্যবহার করছে ইট,বালু,মাটি,বাঁশ,কাঁচামাল ও সকল প্রকার পণ্যসহ যাত্রী পরিবহনের কাজে। এসকল যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলার কারণে যেমন ঘটছে দুর্ঘটনা ঠিক তেমনি পরিবেশ ও শব্দ দূষনের সাথে সাথে দ্রুতই নষ্ট হয়ে পরছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট গুলো।
দূষণের কারণে সব ধরনের ট্রাক্টর ও ট্রলি চলাচল অবৈধ ঘোষণা করে সরকার এবং ট্রাক্টর ও ট্রলি আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কিন্তু সেই আইনের কোন তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের সামনেই অবাধ বিচরণ করছে লাইসেন্স বিহীন চালক দ্বারা চালিত ভয়ংকর এই বাহনগুলো। এসব গাড়ির নেই কোন ফিটনেস ও রেজিষ্ট্রেশন , নেই কোন হর্ণ ও গতি নিয়ন্ত্রক।এসব গাড়ির বিকট শব্দে পথচারী সহ এলাকাবাসীও অতিষ্ঠ। এসব গাড়ি চালাতে লাগচেনা কোন প্রকার ড্রাইভিং লাইসেন্স। যার দরুন প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে।
এ বিষয়ে পথচারীরা বলেন, ইট বালু মাটি ভর্তি এসব ট্রাক্টর গাড়ির পেছনে রাস্তায় চলাচল অসম্ভব বিপদজনক। বেপরোয়া গতি ও বিকট শব্দে পরিবেশ ও সড়কগুলোর মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। গ্রামীণ রাস্তাঘাট গুলো চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব যানবাহনের কারণেই। আর সবসময় প্রশাসনের সামনে দিয়েই চলাচল করছে এ ধরনের যানবাহন। এসব গাড়ির অবাধ চলাচলের কারণে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে পথিকের জীবন। অবৈধ এই যানবাহন গুলো বন্ধে প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ দাবী করেন পথচারী ও সচেতন মহল ।
এ সব ট্রাক্টর চলাচল করার কারণে অনেক রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও খোয়া-বালুর আস্তরণ পর্যন্ত নেই। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। দুই পাশ ভেঙে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে রাস্তা। তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার কিছু রাস্তা দিয়ে এখন আর যানবাহন চলাচল করছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করছে এলাকার মানুষ।
আলেকজান্ডার বাজারের প্রধান এ রাস্তাটি রামগতি উপজেলা থেকে কমলনগর উপজেলা হয়ে সংযুক্ত হয়েছে লক্ষীপুর জেলা সদরের সঙ্গে। অন্যদিকে মেঘনা নদীর তীরঘেষে রাস্তা টি নোয়াখালী সদরের সংগে সংযুক্ত হয়েছে ।
প্রয়োজনে কিছু লোক পায়ে হেঁটেই চলাচল করছেন। অথচ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, চার্জারভ্যান ও ভটভটিসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, নষ্ট হওয়া রাস্তা রক্ষার জন্য বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক বন্ধের দাবিতে একাধীক মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা দরকার বলে মনে করেন জনসাধারণ । ইটভাটা ও বালুমহালের ইজারাদারগণ অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ট্রাক্টর গুলো বন্ধ হচ্ছে না। রাস্তা গুলো সংস্কারের দাবিতেও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেই চলেছে এলাবাসী। বর্তমানে জেলার একাধীক উপজেলায় ট্রাক্টর গুলো মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। রুট পারমিট ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি তীব্র যানজটের। ট্রাক্টর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অবৈধ ভাবে রাস্তার দুইপাশে এলোমেলো ভাবে গাড়ি গুলো দাঁড় করিয়ে রেখে সরু রাস্তাকে আরো সরু করে ফেলেছে তারা। এছাড়া রাস্তার যানযট থেকে মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে এলাকাবাসী। শত চেষ্টা করেও যানযট নিরসন করতে যেন ব্যর্থ হচ্ছে উপজেলার ট্রাফিক বিভাগ। স্থানীয় জনগন এসবের জন্য দায়ী করছে জেলার বিআরটিএর উদাসিনতাকে।
রামগতি থানার ট্রাফিক ইনেন্সপেক্টর (টিএসআই) আব্দুল মমিন বলেন, ট্রাক্টর কৃষিকাজে ব্যাবহার করার কথা কিন্তু ট্রলি লাগিয়ে রাস্তায় নামিয়েছে। রাস্তা রক্ষার জন্য বালুবাহী ট্রাক্টরটলি ও ট্রাক মেইন রোড়ে চলাচল বন্ধের জন্য আমারা চেষ্টা করছি।তাছাড়া এদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেবো।
