বরগুনায় দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলায় ইউপি সদস্য নিহত, আহত- ০৬

শেয়ার

বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনায় নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। এসময় নিহত ইউপি সদস্যর স্ত্রীসহ উভয় পক্ষের ৬ জন গুরুতর জখম হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের পাকুরগাছিয়া এলাকায় এঘটনা ঘটে। নিহত ইউপি সদস্যদের নাম পনু মিয়া (৪৫), তিনি একই এলাকার মোসলেম আলী আকনের ছেলে এবং সাবেক ইউপি সদস্য।

স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পাকুরগাছিয়া এলাকায় দলবল নিয়ে ঠান্ডা গ্রুপের লোকজনের উপর হামলা চালায় পনু গ্রুপ। এসময় ঠান্ডা গ্রুপও রামদা, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। পনু গ্রুপের প্রধান সাবেক ইউপি সদস্য পনু মিয়া এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পনু ঘটনাস্থলেই মারা।

অপরদিকে পনুর সমর্থকদের হামলায় ঠান্ডা বাহীনীর প্রধান ঠান্ডা মিয়াসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঠান্ডা গ্রুপ ও পনু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে সাবেক ইউপি সদস্য পনু মিয়াকে এর আগেও বেশ কয়েকবার কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঠান্ডা বাহিনী।

ঠান্ডার স্বজনরা জানান, কালকে রাতে ঠান্ডা ক্লাবের মধ্যে ঢুকে হঠাৎ করে পনুসহ তার গুন্ডা বাহিনী ঠান্ডার উপরে হামলা চালায়। এতে আরো দুজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিহত সাবেক ইউপি সদস্য পনু মিয়ার স্ত্রী আহত ছবি আক্তার বলেন, ঠান্ডা বাহিনীর ২০ থেকে ২৫ জন লোক ঘরের দরজা ভেঙে টেনে হেচরে বের করে রামদা, টেঁটা নিয়ে আমার স্বামীকে কুপিয়ে নির্মম ভাবে মেরে ফেলেছে৷ আমি আমার স্বামী কে বাচাঁতে গেলে আমাকেও ওরা মারধর করে। আমার ছেলে মেয়ের কোন খোঁজ পাচ্ছি না এখন পর্যন্ত।

এদিকে সচেতন মহল জানান, বরগুনায় যদি প্রতিনিয়ত হামলা সংঘর্ষ চলতে থাকে তাহলে বরগুনের বসবাস করা তো দুষ্কর হয়ে পড়বে! প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নিলে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা বারবার হয়তো ঘটতে থাকবে। আর কতো হত্যা, নির্যাতন, হামলা, মামলা চলতে থাকবে বরগুনায়। আমরা বরগুনাবাসী প্রশাসনের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিকার চাই, আর আতঙ্কে থাকতে চাই না বরগুনায়।

এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে যাই। আমরা আহতদের উদ্ধার করে করে হাসপাতালে পাঠাই। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় জড়িতদের ধরতে আমাদের কঠোর অভিযান চলছে।

সম্পর্কিত খবর

কোন উইজেট পাওয়া যায়নি. উইজেট পৃষ্ঠায় যান এবং অফক্যানভাস সাইডবার উইজেট এলাকায় উইজেট যোগ করুন।.