মোঃ মোবারক হোসেন, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর বেলাবতে আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে ইয়াছিন (৯) নামে এক শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘন্টা পর সোমবার সকালে তার মরদেহ ভেসে উঠলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে।
এর আগে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে বেলাব বাজারের আড়িয়াল খাঁ নদে বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে ইয়াছিন ডুবে যায়। দুইদিন ডুবুরি দল নদীতে খোঁজাখোঁজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি ।
নিহত ইয়াছিন কিশোরগঞ্জ জেলার বত্রিশ গ্রামের রাসেল মিয়ার ছেলে। সে বেলাব উপজেলার মাটিয়ালপাড়া গ্রামে তার নানা রইছ উদ্দিনের বাড়িতে থাকতো।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে শিশু ইয়াছিন তার বন্ধুদের সাথে আড়িয়াল খাঁ নদীতে গোসল করতে যায়। এসময় নদীতে থাকা ভাঙা ডিঙি নৌকায় করে নদীর মাঝ বরাবর গিয়ে গোসলের জন্য ঝাঁপ দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই ইয়াছিন পানিতে তলিয়ে যায়। পরে সাথে থাকা বন্ধুরা স্থানীয়দের জানালে তারা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরে বেলাব ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হলে স্টেশন অফিসার ইয়াছিন ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক ভাবে নদীতে তল্লাশি করে। এসময় শিশুটির খোঁজ না পেয়ে গাজীপুর জেলার টঙ্গীর ডুবুরি দলকে খবর দেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৪ টায় ৪ সদস্যের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোঁজি করে শিশুটির সন্ধান না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় অভিযান বন্ধ করে। পরবর্তীতে রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ডুবুরি দল দ্বিতীয় দিনের মত অভিযান শুরু করে। এদিন সারাদিন নদীর বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করেও শিশুটির সন্ধান পায়নি। পরে তারা রাত সাড়ে আটটার দিকে উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে।
সোমবার (৬ জানুয়ারী)সকাল ৬ টা ৩০ মিনিটে মাঝিরা নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে। পরে তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে সাড়ে ৬ টা ৪০ মিমিটের দিকে ঘটনাস্থল থেকে ২৫০- ৩০০ হাত দূরে নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে এলাকার মানুষরা নদীর ঘাটে ভীড় জমায়। এসময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
বেলাব ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইয়াছিন ইকবাল বলেন, নদীতে গভীরতা বেশী ও তীব্র স্রোত থাকার কারণে আমাদের উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হয়েছে। আমরা ডুবুরি দলের পাশাপাশি নৌকা দিয়েও সন্ধান চালিয়েছি। কিন্তু কোন ভাবেই সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুইদিন পার হয়ে গেলে মরদেহ ভেসে উঠার সম্ভাবনা থাকে এজন্য রাতে অভিযান সমাপ্ত করা হয়। পরে সকালে মরদেহ ভেসে উাার খবর পেয়ে হাটুঁসমান পানি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করেছি। তারা প্রশাসনের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
